মাদারীপুরে গণপিটুনিতে গোবিন্দ রায় (৪৫) নামে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী দুইজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১০ মে) বিকালে জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সাজিদ-উল হাসান চৌধুরী এ নির্দেশ দেন।
এর আগে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সুকদেব মালো ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে।
জানা যায়, সোমবার রাত ৩টার দিকে রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের পূর্ব নাগরদি এলাকার সুকদেব মালোর টিনসেট ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে গোয়ালবাথান এলাকার তারাপদ রায়ের ছেলে গোবিন্দ রায়। ঘরের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে আটক করে। পরে প্রতিবেশী আকাশ মালো ও সুমন মালোর সহযোগিতায় সুকদেব মালো ও তার স্ত্রী বিথিসহ বেশ কয়েকজন মিলে গোবিন্দকে বেদম পিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় গোবিন্দ। বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য লাশ ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশ মিটার দুরে তালপট্রির সড়কের পাশের একটি পরিত্যক্ত দোকানের সামনে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। পরে মঙ্গলবার সকালে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত গোবিন্দের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নিহতের ভাতিজা রমেন রায় বাদী হয়ে রাজৈর থানায় ৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মাদারীপুরের রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, মামলায় পূর্ব নাগরদি এলাকার সুকদেব মালো (৫০) ও তার স্ত্রী বিথি মালোকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়। এছাড়া বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
