নির্বাচনের আগে অনলাইনে ভিন্নমত দমন করছে তুরস্ক

আপডেট : ১১ মে ২০২৩, ১৩:১৬

তুরস্কের নতুন 'ডিইনফরমেশন ল' মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই আইনে সাংবাদিক ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা অনলাইনে ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য জেলে যেতে পারেন।

গত বছর অক্টোবরে পাস হয় তুরস্কের ভুয়া তথ্য আইন বা ডিসইনফরমেশন ল। তখন থেকেই এই আইন নির্বাচনকে সামনে রেখে পাস করা হচ্ছে এবং তা বিরোধী মত দমন করতে ব্যবহৃত হতে পারে বলে সমালোচনা হয়েছিল। 

তুরস্কের নতুন 'ডিইনফরমেশন ল' মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আগামী রোববার (১৪ মে) প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন। এ অবস্থায় অনেকেই এই আইনের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সমালোচকরা শুরু থেকেই বলছেন, আইনে ভুয়া তথ্য বলতে কী বোঝানো হচ্ছে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। 

এই আইনে সামাজিক মাধ্যমকেও তুরস্ক কর্তৃপক্ষ চাইলে ব্যবহারকারীর তথ্য দানে বাধ্য করা হয়েছে। টুইটার ও মেটা এখন পর্যন্ত তথ্য চাওয়ার আবেদনে সাড়া দেয়নি। ফেব্রুয়ারি মাসে তুর্কি পুলিশ ভূমিকম্প নিয়ে উসকানিমূলক পোস্ট দেবার অভিযোগে ৭৮ জনকে গ্রেফতার করে। 

আগামী রোববার (১৪ মে) প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন।

ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় ৫০ হাজার মানুষ মারা যায়। তুরস্কের ফ্রিডম রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের প্রকল্প কর্মকর্তা শাগিন এরোলু জানান, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি। কিন্তু সরকারি তথ্যকে প্রশ্ন করা হলে তার ফল ভালো নাও হতে পারে।

তিনি বলেন, 'আপনি বলতে পারবেন না যে আমরা আমাদের হিসেব করেছি... আপনাকে সরকারের ভাষ্যের সঙ্গে সুর মেলাতে হবে।' এ সপ্তাহে দেয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে তুর্কি সরকার অনলাইনে ভিন্নমত দমন বাড়িয়েছে। 

ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় ৫০ হাজার মানুষ মারা যায়।

সংস্থাটির গবেষক ডেবোরাহ ব্রাউন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, 'নির্বাচনের আগে তুরস্কের সরকার সামাজিক মাধ্যম ও স্বাধীন অনলাইন মাধ্যমগুলোর ওপর সেন্সরশিপ বাড়িয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে।'

সরকারের তথ্যের সমালোচনা করায় গত মাসে এমনকি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোর কোনো কোনোটিকে জরিমানাও করেছে সরকার। বিরোধী পক্ষের একমাত্র মুখপাত্র ফক্সটিভিকে তাদের মাসিক আয়ের ৩ ভাগ ফাইন করা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে রিসোর্স সেন্টার অন মিডিয়া ফ্রিডম ইন ইউরোপ।

ইত্তেফাক/ডিএস