বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

আওয়ামী লীগ নেতা টিপু হত্যা

জবানবন্দির তথ্য গোপন করে জামিন, বাতিল আপিল বিভাগের

  • মুসার জবানবন্দিতে খুনের সঙ্গে জিতুর সম্পৃক্ততার তথ্য আসে
আপডেট : ১৬ মে ২০২৩, ২০:৩২

দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাম এসেছিলো আসামি ইমরান হোসেন জিতুর। যিনি মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাম থাকার তথ্য গোপন করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে জামিন নেন আসামি জিতু। 

বিষয়টি জানার পরদিনই তা আদালতের নজরে আনেন রাষ্ট্রপক্ষ। একইসঙ্গে জামিন সংক্রান্ত আদেশ প্রত্যাহার (রিকল) চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ জামিন সংক্রান্ত আদেশ প্রত্যাহার করে নেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জাহাংগীর আলম ও আসামির পক্ষে আব্দুন নূর দুলাল শুনানি করেন। জাহাংগীর আলম ইত্তেফাককে জানান, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে আসামি কারামুক্তি পাচ্ছেন না। হাইকোর্টের জামিন আদেশের উপর চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশই বহাল থাকছে।

গত  বছরের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার শাহজাহানপুরে আমতলা মসজিদ এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসললাম। সে সময় ঘটনাস্থলে রিকশায় বসে থাকা কলেজ ছাত্রী সামিয়া আফরিন ওরফে প্রীতি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় করা মামলায় ওই বছরের ১০ জুন দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় সুমন সিকদার ওরফে মুসাকে। এই মুসার জবানবন্দিতে জিতুর নাম আসে। 

জাহিদুল ইসলাম টিপু।

যেখানে বলা হয়, জিতুর দখলে থাকা একটি অস্ত্র এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডে জিতুর সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা এই জবানবন্দিতে উঠে আসে।

এই মামলায় গত বছরের ১০ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করা পর্যন্ত জিতুকে জামিন দেয় বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করে দেয়। একইসঙ্গে আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। সেই মোতাবেক সোমবার আপিল বিভাগের দুই নম্বর বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি শুনানির জন্য আসে।

শুনানিতে আসামি জিতুর পক্ষ থেকে যে আবেদন দেওয়া হয় সেখানে এই মামলার অন্যতম আসামি শুট্যার মাসুম মো. আকাশের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দাখিল করা হয়। কিন্তু এই জবানবন্দিতে জিতুর নাম নেই। এরপরই চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ তুলে জিতুকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এরপরই আসামি জিতুর নাম এই মামলার আরও দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রয়েছে জানতে পেয়ে পরদিনই আপিল বিভাগের আদেশ প্রত্যাহারের (রিকল) আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ জামিন আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়ে চেম্বার  আদালতের আদেশ বহাল রাখেন। একইসঙ্গে ২১ মে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দেয়। 

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন