বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৩ আশ্বিন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনে আসছে পরিবর্তন, বেড়েছে শিক্ষিতের হার

আপডেট : ১৮ মে ২০২৩, ১১:২৪

চাঁদপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রায় ৩২১ পরিবারের বসবাস। এক সময় এসব পরিবারের লোকজন অবহেলিত থাকলেও বর্তমান সরকারের নানা সহযোগিতার কারণে তাদের জীবনমান পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষিতের হার বেড়েছে এবং অনেকেরই কর্মসংস্থান হয়েছে।

নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো পর্যায়ক্রমে পাচ্ছে মাথা গোজার ঠাঁই। তারা স্থানীয় মুসলিম পরিবারগুলোর সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের বসবাস। এখানে তারা একটি কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন।‘ত্রিপুরা জাতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে উপজেলার অধিকাংশ পরিবার সরকারি বিভিন্ন সহায়তা নিচ্ছে। বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা সরকারি সহায়তায় বিনা মূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, গবাদি পশু, হাঁস ও মুরগি এবং মাছচাষের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ২০ পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ছেলে ও মেয়েদের শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা উপকরণ, উপবৃত্তি ও পরিবহন হিসেবে অর্ধশতাধিক সাইকেল দেওয়া হয়েছে।

বালিয়া গ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর খোকন ত্রিপুরা বলেন, তাদের বাড়ি ছিল সদরের চান্দ্রা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে। মেঘনার ভাঙনের শিকার হয়ে তারা বেশ কয়েকটি পরিবার নিয়ে চলে আসেন বালিয়া গ্রামে। ১৯৯১ সাল থেকে তারা একটি কমিউনিটির মাধ্যমে আছেন। যার কারণে তারা এখন সরকারি সব রকমের সহযোগিতা পান। তার চার ছেলে ও এক মেয়ে। সবাই স্কুল ও কলেজে পড়ছে। একই গ্রামের দুই শিক্ষার্থী রিদিতা সপ্তম শ্রেণিতে ও নির্জ্জর দেবী স্নেহা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে পার্শ্ববর্তী বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। এক সময় তারা কয়েক মাইল হেঁটে বিদ্যালয়ে যেত। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সাইকেল দেওয়ায় গত দুই বছর সাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে যায়। তারা খুবই আনন্দিত।

চাঁদপুর সদর ত্রিপুরা জাতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কর্ণরাজ ত্রিপুরা জানান, সরকারি সহযোগিতার কারণে তাদের অনেকের মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে। আবার অনেক পরিবারকে নতুন করে ঘর দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তাদের সন্তানরা শিক্ষিত হচ্ছে। এখন সরকারি চাকরির বিষয়ে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ বলেন, এক সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবারগুলো অবহেলিত ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করায় তাদের জীবনমান অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তাদের বাসস্থান করে দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে।

তিনি বলেন, নাগরিক হিসেবে তাদের মৌলিক চাহিদার ঘাটতি থাকছে না। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোতধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

 

 

 

ইত্তেফাক/আরএজে