২৮ বছর ধরে স্থগিত হত্যা মামলার বিচার

রাষ্ট্রের পাশাপাশি বিচার বিভাগও দায় এড়াতে পারে না: হাইকোর্ট

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ১৮:৫৬

আদালতের আদেশে ২৮ বছর ধরে সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার বিচার স্থগিত থাকায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলছেন, এজন্য রাষ্ট্রের পাশাপাশি বিচার বিভাগও দায় এড়াতে পারে না। বিলম্বিত বিচার মানে বিচারকে অস্বীকার করার নামান্তর।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানিকালে রবিবার এই মন্তব্য করেন।

যার আবেদনে এই মামলার বিচার স্থগিত সেই মারুফ রেজার আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেন, উনি (মারুফ) তো এই মামলায় আসামি বা সাক্ষী কোন তালিকায় তার নাম নেই। তাহলে কিভাবে নিম্ন আদালতের অধিকতর তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করলেন। আপিল বিভাগের রায়ও আছে অধিকতর তদন্তের আদেশ স্থগিত করা যাবে না। মামলার যেকোনো অবস্থায় বিচারিক আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দিতে পারেন।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশের নামে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির সড়ক

মারুফ রেজার আইনজীবী ওবায়দুর রহমান বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে এই মামলা নিয়ে প্রতিবেদন দেখেছি। অনেক পুরাতন মামলা। যে নথিপত্র আমাদের কাছে রয়েছে তা থেকে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি। এরপর ২৮ বছর আগে অধিকতর তদন্তের জন্য ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের দেওয়া আদেশ আদালতে পড়ে শোনান তিনি।

হাইকোর্ট বলেন, অধিকতর তদন্তের আদেশে আপনার মক্কেল কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো এবং এ ধরনের রিভিশন মামলার করার আইনগত এখতিয়ার তার ছিলো কিনা সেটা আপনাকে ব্যাখ্যা করতে হবে। ওই আইনজীবী বলেন, কোর্ট যেভাবে চায় সেভাবেই আদালতকে আমরা সহযোগিতা করব।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট ফরহাদ আহমেদ বলেন, মারুফ রেজার অবস্থা এমন যে, ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাই নাই। যার নাম এজাহারে বা অভিযোগপত্রে নেই তিনি কিভাবে অধিকতর তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করলেন? মারুফ রেজা খুনের ঘটনায় জড়িত বলেই বিচার স্থগিতের জন্য ওই আবেদন করেছেন। আদালত বলেন, দীর্ঘ শুনানির কোন সুযোগ নেই। বুধবার রুলের ওপর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে।

সগিরা মোর্শেদ সালাম (৩৪) ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীতে ছিনতাইকারীর গুলিতে মারা যান। এ ঘটনায় ওইদিনই রমনা থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্বামী সালাম চৌধুরী। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রিকশাচালক দুজনকে সনাক্ত করলেও অজ্ঞাত কারণে মিন্টু ওরফে মন্টু নামে এক আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় ডিবি পুলিশ।

সাক্ষ্য চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ১৯৯১ সালের ২৩ মে মামলাটি অধিকতর তদন্তের আদেশ দেয় ঢাকার একটি আদালত। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন মারুফ রেজা। ওই বছরের ২ জুলাই হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। এরপর দীর্ঘ ২৮ বছর মামলাটির উপর স্থগিতাদেশ রয়েছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রপক্ষ ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিলে হাইকোর্টে মামলাটির রুলের উপর শুনানি শুরু হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচ