সেতাবগঞ্জ চিনিকলে উৎপাদন বন্ধ, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি সরঞ্জাম

আপডেট : ২৯ মে ২০২৩, ০২:০২

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনভুক্ত উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনিকল ‘সেতাবগঞ্জ চিনিকল’ বন্ধ থাকায় অনেক শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়ে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন। খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও যানবাহন। অন্যদিকে ৯০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই চিনিকলকে ঘিরে সেতাবগঞ্জের যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছিল তা আজ স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা আবার চালু করা হবে মিলটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিগত উদ্যোক্তা সুগরমল আগরওয়াল ও নাগরমল আগরওয়াল দুই ভাই ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। দিনাজপুরের একমাত্র ভারী শিল্প-প্রতিষ্ঠান সেতাবগঞ্জ চিনিকলের অধীনে আখ চাষের জন্য আবাদি জমি ও শ্রমিক-কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের আবাসনসহ মোট ৩ হাজার ৮৬০ একর জমি রয়েছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চিনিকলটির মেশিনপত্র ধ্বংস করে ফেলে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭৪ সালে একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সেতাবগঞ্জ চিনিকলটি লে-অব ঘোষণা করে।

১৯৮২ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মিলটিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা হয়। চিনিকলটি চালু হওয়ায় আবারো প্রাণ ফিরে পান আখচাষি ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। অন্যদিকে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হতে থাকে। চিনিকলের নিজস্ব জমি ও সাধারণ কৃষকের রোপণকৃত আখ দিয়ে সে সময় বছরে ৩ মাস থেকে ৪ মাস আখ মাড়াই করত চিনিকলটি। এরপর চিনিকলটি বয়সের ভারে যন্ত্রপাতি অনেকটাই অকেজো হয়ে পড়ে এবং আখ মাড়াইয়ের সক্ষমতা কমে আসে। অন্যদিকে নানা কারণে চিনিকলটি লোকসান গুনতে থাকে। সর্বশেষ লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এমতাবস্থায় সরকার ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বরে দেশের ছয়টি চিনিকলের সঙ্গে সেতাবগঞ্জ চিনিকলটিও বন্ধ করে দেয়।

চিনিকলের শ্রমিক মহসীন আলী বলেন, সেতাবগঞ্জ চিনিকলের আখমাড়াই বন্ধ হওয়াতে চিনিকলের মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও আখ আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর এবং ট্রাক্টরের ট্রলি খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। ট্রাক্টর এবং ট্রাক্টরের ট্রলিতে জন্ম নিয়েছে হাজারও আগাছা, পরিণত হয়েছে জঙ্গলে। একই অবস্থা চিনিকলের ক্যান ক্যারিয়ারটিও। অযত্নে আর অবহেলায় যেন সব কিছুই নিঃশেষ হতে বসেছে।

এ ব্যাপারে সেতাবগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হুমায়ন কবীর বলেন, এসব ট্রাক্টর অন্য মিলের চাহিদাপত্র এলে আমরা তা পাঠিয়ে দেব। এসব ট্রাক্টর ও ট্রলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উন্নত কোনো ব্যবস্থা নেই। এদিকে গত পহেলা মে সেতাবগঞ্জে এক শ্রমিক সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নতুন ব্যবস্থাপনায় সেতাবগঞ্জ চিনিকল আবার চালু করা হবে। এটি এই এলাকার সম্পদ, এটি নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

ইত্তেফাক/ইআ