বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন হয় ২০০৩ সালের ২০ মার্চ। মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। সেই থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই সিটিতে চার জন নির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু মেয়র যায় মেয়র আসে, অথচ বরিশাল শহরে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সময়কালে কিছু উন্নয়ন হলেও পরে বিএনপিপন্থি আহসান হাবিব কামাল এবং বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সময়কালে বরিশালে বড় পরিসরে কোনো উন্নয়ন হয়নি।
জানা গেছে, গত সাড়ে ৪ বছরে সরকারি বড় ধরনের বরাদ্দ না আসায় নিজস্ব আয় দিয়েই পরিচালিত হয়েছে সিটি করপোরেশন। নিজস্ব আয়ের কাজের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পাঁচ বছরের গ্যারান্টি সহকারে সড়ক সংস্কার। তবে এ সময়কালে সাধারণ মানুষের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে। যা নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই সাধারণ মানুষের। এবারের নির্বাচনে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছে নগরবাসী।
সরেজমিনে ভোটারদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, তারা এবার কৌশলী হচ্ছেন। সাধারণ ভোটাররা সব প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির কথা শুনছেন তবে ভোটের বিষয়ে কাউকেই নিশ্চয়তা দিচ্ছেন না। তারা প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। মহানগরীর কশিপুরের বাসিন্দা শারমিন বেগম ইত্তেফাককে জানান, ‘ভোটের সময় হলে আমাদের খোঁজ নিতে আসে তারা ভোট চাইতে, আর ভোট হয়ে গেলে খবর থাকে না। এ পর্যন্ত যে কয়জন মেয়র হয়েছে তাদের মধ্যে হিরন ছাড়া কেউ আসে নাই নির্বাচনের পরে আমাদের খোঁজ নিতে। তাই এবার যে আমাদের খোঁজখবর নিবে, বিপদেআপদে পাশে দাঁড়াবে তাকেই ভোট দিব।’
শুধু রহিমাই নন তার মতো এমন কথা বলেছেন আরো অনেকেই। নগরীর বর্ধিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা সিটির সব কর পরিশোধ করেও পাচ্ছেন না সিটি করপোরেশনের কোনো সুযোগ-সুবিধা। ওয়ার্ডের প্রধান যে সড়কগুলো আছে সেগুলো খারাপ না। তবে অলিগলির একটি রাস্তায়ও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এখানকার অধিকাংশ সড়কের পাশে ড্রেনের ব্যবস্থা নেই। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নেমে যেতে তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এতে মানুষ অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। তাই এমন একজন মেয়র চাই যিনি জনগণের সুখ-দুঃখের ভাগিদার হবেন, যতটা সম্ভব তা নিরসন করার চেষ্টা করবেন।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনিসুর রহমান স্বপন বলেন, ‘আমাদের যে নির্বাচনগুলো হচ্ছে সেগুলো অংশগ্রহণমূলক না হলে স্বাভাবিকভাবে ভোটাররা তাদের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুযোগ পান না। তাই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে করতে হবে। আর ভোটারদের হাতে যে ক্ষমতা সেটির প্রয়োগ হলেই নির্বাচনে সফলতা আসবে।’
প্রসঙ্গত, ১৮৭৬ সালে বরিশাল শহরকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। তখন ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল ১০টি। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বরিশাল পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। কালের পরিক্রমায় ১৯৮৫ সালে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা এবং ২০০২ সালের ২৫ জুলাই সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়। ২৫ বর্গকিলোমিটার থেকে বর্ধিত হয়ে এর আয়তন দাঁড়ায় ৫৮ বর্গকিলোমিটারে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ আর ওয়ার্ড সংখ্যা ৩০টি।
পলিথিন মোড়ানো পোস্টারে ছেয়ে গেছে শহর : এদিকে আগামী ১২ জুনের সিটি নির্বাচন সামনে রেখে শহরে দড়িতে পোস্টার ঝুলিয়ে চলছে প্রচার-প্রচারণা। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে প্রবল বৃষ্টির কারণে পোস্টার সাঁটানো নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রতীক বরাদ্দের পর দুই-একদফা পোস্টার ঝুলানো হলেও প্রবল বৃষ্টিতে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এখন বিকল্পভাবে পোষ্টার ঝুলানো হচ্ছে। নিষিদ্ধ পলিথিনের মধ্যে পোস্টার ঢুকিয়ে তা ঝুলানো হচ্ছে।
গত দুই দিন নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্রই নিষিদ্ধ পলিথিন দিয়ে পোস্টার ঝুলিয়েছেন মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এছাড়া কিছু কিছু প্রার্থী তাদের নাম ও মার্কা দিয়ে তৈরি করেছেন ক্যালেন্ডার। ঐ সব ক্যালেন্ডার ভোটারদের বাসাবাড়িতে বিলি করা হচ্ছে। তৈরি করা হয়েছে কাপড়ের ব্যানার। প্রার্থীরা জানান, গত কয়েক দিন থেমে থেমে ঝড়-বৃষ্টিতে একাধিকবার পোস্টার নষ্ট হয়ে গেছে। তাই পলিথিনের মধ্যে পোষ্টার ঢুকিয়ে তা ঝুলিয়ে দিচ্ছেন। পোস্টার লাগানো কাজে নিয়োজিতরা জানান, বর্তমানে এ কাজে তারা বেশ ভালো পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।
