যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই বোনের মৃত্যু

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ২২:১৭

মাত্র তিন ঘন্টার ব্যবধানে মারা গেল আপন দুই বোন। স্বামীর নির্যাতনে বড় বোন এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যায় ছোট বোন। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে শরণখোলা উপজেলার উত্তর কদমতলা গ্রামে। নিহত দুই বোন ওই গ্রামের আলম খানের মেয়ে।

রবিবার ভোর রাত ৪টার দিকে মারা যান মেঘনা বেগম (২০)। যৌতুকের দাবিতে দফায় দফায় স্বামীর নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মেঘনার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ চার জনের নামে শরণখোলা থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। 

এদিকে, বড় বোনের মৃত্যুর খবর শুনে রবিবার সকাল ৭টার দিকে দেখতে আসা আত্মীয়-স্বজনদের জন্য ফ্যান চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় মেঘনা আক্তারের ছোট বোন তামান্না আক্তার (১২)। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  নিহত তামান্না উত্তর কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও পারিবার সূত্রে জানা যায়, ১৪ মাস আগে উপজেলার মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামের রহমান তালুকদারের ছেলে মৎস্যজীবী সেলিম তালুকদারের সঙ্গে আলম খানের বড় মেয়ে মেঘনার বিয়ে হয়। ফিশিং ট্রলার নির্মাণ করবে বলে সেই থেকে তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করে মেঘনাকে শারিরীক নির্যাতন করতে থাকে স্বামী। এক পর্যায়ে তার দেবররাও তাকে নির্যাতন শুরু করে। এতে মেঘনা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে গত শুক্রবার (২১ জুন) মেঘনাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে তার বাবা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসার পর শনিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে আনার পর রাতে তার মৃত্যু হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শরণখোলা থানার উপ-পরিদর্শক এসএম আবুল বাশার জানান, মেঘনার বাবা আলম খান বাদী হয়ে স্বামী সেলিম তালুকদার, তার তিন দেবর ডালিম তালুকদার, নূরু তালুকদার, লোকমান তালুকদারসহ চার জনের নামে যৌতুকের দাবিতে মারপিট করে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন: মেলান্দহে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু

অপরদিকে, শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. রিপন নাথ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই কিশোরী তামান্নার  মৃত্যু হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু