সিটি কপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিলেও তা মানছেন না স্থানীয় নেতাকর্মীরা। দল থেকে হুঁশিয়ারি ছিল—যারা এই নির্বাচনে অংশ নেবে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কোনো কোনো প্রার্থী নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে স্ত্রীকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন, কেউ কেউ নিজেদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
২২ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য আ ন ম সাইফুল আহসান আজিম নিজে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও তার স্ত্রী মহিলা দল নেত্রী জেসমিন সামাদ শিল্পীকে দিয়ে সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করাচ্ছেন। এছাড়াও প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের মধ্যে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান টিপু, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সদস্য মো. সেলিম হাওলাদার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ, মহানগর যুবদলের সহসভাপতি হুমায়ুন কবির, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সৈয়দ হাবিবুর রহমানসহ সাধারণ ও সংরক্ষিত মিলিয়ে ২০ জন বিএনপির বর্তমান ও সাবেক নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও মেয়র পদে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা কামরুল আহসান রুপনও টেবিল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ জানিয়েছেন, যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। যারা নির্বাচন করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দল।
- এদিকে মেয়রপ্রার্থীরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চালাচ্ছেন জোর প্রচারণা
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত) বলেছেন, যেসব দল ধর্মের কথা বলে, তারা ইসলামের জন্য কী করেছে। বরং আওয়ামী লীগ ইসলাম সম্প্রসারণের জন্য সর্বোচ্চ কাজ করে যাচ্ছে। একটি পক্ষ ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করতে চায়। নির্বাচিত হলে ইমাম, মুয়াজ্জিনদের বেতন বাড়ানোর চেষ্টা করব।
তিনি গতকাল বুধবার জেলা ও মহানগরের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও আলেম-ওলামাদের মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। বিএম স্কুল হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে নৌকার প্রার্থী কালিজিরা বাজার ও সন্ধ্যায় ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, কে বি এস আহমেদ কবির, অ্যাডভোকেট আনিচ উদ্দিন সহিদ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহামুদুল হক খান মামুন, মানবাধিকার কর্মী মাহাবুব মোর্শেদ শামিম, সমাজকর্মী কাজী এনায়েত হোসেন শিপলুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, বরিশাল সিটিতে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য বিশেষায়িত কোনো ব্যবস্থা নেই। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে নগরে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চত করতে বিদ্যমান হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে সিটি করপোরেশনের আওতায় এনে উন্নত ও আন্তরিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি করে মাতৃসদন প্রতিষ্ঠা করা হবে, ইনশাআল্লাহ। তিনি গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর জেলখানা মোড় এবং সদর রোড এলাকায় ও জিলাস্কুল, ভাটিখানা, পোর্ট রোড, নথুল্লাবাদ, কালুখান সড়ক এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের গাবতলা এলাকায় গণসংযোগ করেন।
অন্যদিকে বেলা ১১টায় কোর্ট চত্বরে আইনজীবীদের সঙ্গে গণসংযোগ করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের স্ত্রী ইসমত আরা ইকবাল। এ সময় তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও উত্পাদনমুখী নগরী বিনির্মাণে জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের মেয়র প্রার্থীকে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন নগরীর পোর্ট রোড, জাকের পার্টির প্রার্থী মিজানুর রহমান বাচ্চু নগরীর সদর রোড, স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান নগরীর পলাশপুর, হাটখোলা, রূপাতলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলি হোসেন কাশিপুর এলাকায় গণসংযোগ ও দোয়া কামনা করেন।
- চা দোকানি থেকে বরিশাল সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী
সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চা দোকানি ওবায়দুর চৌধুরী অপু। সংগত কারণেই মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে গরিবের প্রার্থী ওবায়েদ চৌধুরী। আর নির্বাচনি খরচও জুগিয়েছেন এলাকার গরিব মানুষ। বরিশাল প্রেসক্লাবের ঠিক বিপরীতে ৮ বছর ধরে চায়ের দোকান চালিয়ে আসছেন বিধায়, সবার পরিচিত সে। অপু বলেন, চায়ের দোকান চালাতে গিয়ে গরিব-মেহনতি মানুষের সঙ্গে সুসর্ম্পক গড়ে উঠেছে, পরিচিতি লাভ করেছেন। মাদক ও ইভটিজিং দূর করাই তার মূল লক্ষ্য।
