‘এ দেশের স্ট্রাইকাররা অলস’

আপডেট : ০১ জুন ২০২৩, ১১:২৮

বেলা ১১টা থেকে অপেক্ষা করার পর বিকাল সাড়ে ৪টায় মোহামেডান ক্লাবে এসেছেন দলের অধিনায়ক মালীর ফুটবলার সুলায়মান দিয়াবাতে। গায়ে ১০ নম্বর জার্সি। থাকেন গুলশানে। একটা কাজে গিয়েছিলেন উত্তরা।  সেখান থেকে মতিঝিলে ক্লাব টেন্টে ফিরতে সূর্য তখন পশ্চিমে হেলে গেছে। ঘেমে সাদাকালো গেঞ্জি ভিজে গেছে। হাতে পানির বোতল। বলছিলেন রাতে ঘুম হয়নি। ক্লান্ত শরীর।

সুলায়মান দিয়াবাতে ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন মোহামেডানকে। টুর্নামেন্ট সেরা, ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হওয়াসহ সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। সব ট্রফি তার হাতে। এত ভালোভালো স্ট্রাইকার খেলছে আবাহনী, বসুন্ধরা কিংসে। তাদেরকে ছাপিয়ে দিয়াবাতে ফেডারেশন কাপে ৮ গোল করেছেন। কিন্তু দিয়াবাতে নিজেকে সবার ওপরে রাখতে রাজি না। নিজেকে সবার মতোই মনে করেন তিনি। কাতার বিশ্বকাপে ফাইনালে এমবাপে যেভাবে খেলে গোল করেছেন অনেকেই তাকে এমবাপের মতো পরিশ্রমী বলছেন। সুলায়মান ভুলেও এমবাপের মতো পরিশ্রমী মনে করতে রাজি না। তিনি ইংলিশ ফুটবলার হ্যারি কেনের খেলা অনুসরণ করেন। হ্যারি কেনকে ভালো লাগে, এ পর্যন্তই।

বাংলাদেশে ফুটবলে পাঁচ বছর খেলছেন। ভিয়েতনাম থেকে এসে সোজা মোহামেডান। আগেও মোহামেডান ৪ গোলে হারিয়েছিল আবাহনীকে। সেই ম্যাচ খেলেছেন সুলায়মান। ফাইনালের আগে তাই খুব বেশি দুশ্চিন্তা ছিল না সুলায়মানের। আবাহনীর তুলনায় মোহামেডান শক্তিশালী দল না। কিন্তু মনের জোর কাজে লাগিয়েছে ফাইনালে। মঙ্গলবার কুমিল্লায় ফেডারেশন কাপ ফুটবল ফাইনালে টাইব্রেকে ৪-২ গোলে আবাহনীকে হারিয়ে ১৪ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হলো।

বিদেশি স্ট্রাইকারদের ভিড়ে দেশি স্ট্রাইকাররা নাকাল। লিগের শীর্ষ গোলদাতার তালিকায় এক ডজন নামের তালিকায় বাংলাদেশি স্ট্রাইকারদের নাম নেই। দেশি স্ট্রাইকাররা ক্লাব ফুটবলে বেঞ্চে বসে থাকেন। আর জাতীয় দলের খেলা হলে তদের গুরুত্ব বেড়ে যায়। স্ট্রাইকাররা গোল খরায় ভুগতে থাকেন। ক্লাব ফুটবলেও একই অবস্থা। শেখ মো. আসলামদের বেলায় তো এমনটা হয়নি। এখনকার ফুটবলে দেশি স্ট্রাইকারদের আক্ষেপ তারা মাঠে সুযোগ পায় না।

১৯৯১ সালে জন্ম নেওয়া সুলায়মান পাঁচ বছর বাংলাদেশের ফুটবল দেখেছেন। দেশি স্ট্রাইকাররা ব্যর্থ হচ্ছে কেন ? এমন প্রশ্নে সুলায়মান বলছিলেন বাংলাদেশের স্ট্রাইকাররা অলস। তারা পরিশ্রম করতে চায় না। ম্যাচ খেলার বাইরেও ব্যক্তিগত অনুশীলন খুব গুরুত্বপুর্ণ। হ্যারি কেইন-রোনালদোদের দেখুন। তাদের মাসল, স্পিরিট, শুটিং, হেডওয়ার্ক কতটা উন্নত। নিজের উন্নতি হয়। তার কারণ টিমের বাইরে বাড়তি অনুশীলন করেন তারা। এটা আমি ফলো করার চেষ্টা করি। কিন্তু বাংলাদেশের স্ট্রাইকাররা বাড়তি কাজ করতে চায় না। নিজের উন্নতির জন্য অনুশীলন করতে হয়।’

ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ইতিহাসে সুলায়মান দিয়াবাতে একমাত্র ফুটবলার যিনি ফাইনালে চার গোল করেছেন। এটি নতুন ইতিহাস। ফাইনালে জয়ের নায়ক। তার নাকি জানা ছিল না এটি ইতিহাস। গতকাল বললেন, ‘আমি জানতাম না। আলহামদুলিল্লাহ।’ তার ফুটবল ক্যারিয়ারে আগেও ট্রফি জয় করেছিলেন। সুলায়মান বললেন,‘বাংলাদেশের এই ট্রফিটা আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বেশি মযার্দার।’

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন সুলায়মান। খুব সাদাসিধে থাকতে পছন্দ করেন। হইচই করতে চান না। খুব কম বয়সে বাবা হারিয়েছেন। দেশে মা আছে। ৬ ভাই ৪ বোন, ১০ ভাই বোনের সংসারে সুলায়মান চতুর্থ। বড় ভাই ফুটবল খেলেছেন। ছোট ভাই ফুটবল খেলছেন। মালীর বয়স ভিত্তিক জাতীয় দলে খেলেছেন সুলায়মান কিন্তু সিনিয়র দলে খেলা হয়নি। সুলায়মান বললেন, ‘আমাদের দেশের ফুটবলাররা ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলছে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্সে খেলে। আমার জন্য খুব কঠিন জাতীয় দলে ঢোকা।

তার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল বাস্কেটবল দিয়ে। বাস্কেটবল খেলতেন। লিগও নাকি খেলেছেন। কিন্তু ফুটবলের টানে বাস্কেটবল ছেড়ে চলে এসেছেন। পাঁচ বছরে একাধিক ক্লাব থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন সুলায়মান দিয়াবাতে। এখনও অনেক ক্লাব তাকে নিতে চায় কিন্তু সেখানে যেতে রাজি না। দাবি করলেন মোহামেডান তাকে ভালো রেখেছে।

ইত্তেফাক/এসএস