ফেডারেশন কাপের ফাইনালে সুলায়মান দিয়াবাতের ৪ গোলের আলো নিভে যেত, যদি গোলকিপার সুজন হোসেন আবাহনীর একাধিক শট না থামাতে পারতেন। আবাহনীর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গোল হতে দেননি। এভাবেও বলা যায়, বদলি খেলতে নামা গোলকিপার আহসান হাবিব বিপু টাইব্রেকে দুই দুটি শট ঠেকিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। ব্রাজিলিয়ান রাফায়েল অগাস্তো ও কোস্টারিকার কলিন্দ্রেসের মূল্যবান শট ঠেকাতে পারার কথা না। গোলকিপার বিপু অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। কারো অবদান কম নয়। তবে দর্শক চোখে লেগে আছে টাইব্রেকিংয়ের পর্ব।
ফাইনাল খেলা শেষে টাইব্রেকের নায়ক বিপুকে নিয়ে দলের অন্য খেলোয়াড়েরা উল্লাস করতে ব্যস্ত। বিপুর সমর্থকদের ভালোবাসার জবাব দিতে গ্যালারির কাছে গিয়ে উল্লাস করেছেন। ভিড়ের মধ্যে বিপুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সবকিছু ঠেলে বেরিয়ে এলেও তাকে নিয়ে মাঠে ঢোকা সমর্থকেরা সেলফি তুলতে ব্যস্ত।
ফাইনালে পদক দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক ফুটবলারকে। কিন্তু বিপু পদক পাননি। পরে অন্যভাবে পদকের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। বিপু বললেন, ‘আমি তো ছিলাম না। পদক পাইনি। পরে আমাকে দেওয়া হয়েছে।’
আত্মবিশ্বাসী গোলকিপার বিপু বেঞ্চে বসে ফাইনাল দেখছিলেন। গোল ও পালটা গোলের খেলাটা যদি টাইব্রেকিংয়ে গড়ায়, তাহলে বিপু নামবেন। এমন একটা প্রস্তুতি নিয়ে বিপু নিজেকে গরম রাখছিলেন। টাইব্রেকিংয়ে নেমে মাথায় রেখেছেন দলের জন্য কিছু একটা করতে হবে। সেই শপথ ছিল। আবাহনীর রাফায়েলের শট অনুসরণ করেন বিপু। রাফায়েল সব সময় বাম দিকে শট নেন, কিন্তু ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ডান দিকে শট করে নিজেই ফাঁদে পড়েছিলেন রাফায়েল। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকিয়ে দেন বিপু। কলিন্দ্রেসের শট ঠেকিয়ে দেওয়া প্রশ্নে বিপুর কথা হচ্ছে, কলিন্দ্রেস সময় নিচ্ছিল। সেটাই হয়তো বিপুর জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। বিপু বললেন, ‘সবই আল্লাহর ইচ্ছা। আল্লাহতাআলা ওপর থেকে সিগন্যাল দিয়েছেন বলেই ঠোকাতে পেরেছি।’ বিপু বলছেন, ‘ওরা (রাফায়েল ও কলিন্দ্রেস) যদি দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার হয়, আমরাও দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার।’
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ছেলে বিপু। ফুটবল খেলতে এসে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত মেনে নিয়েছেন। হাত ভেঙেছে। চোট পেয়েছেন। ২০২০ সালে সন্তান হয়েছিল, চার ঘণ্টা পরই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। কত কষ্ট বুকে চেপে কাউকে কিছু না বলে মাঠে নেমেছিলেন। জানতে চাইলে বিপু বললেন, ‘হয়তো ওপারে দেখা হবে সন্তানের সঙ্গে।’
এখন এক কন্যাসন্তানের বাবা বিপু। ১১ মাস হয়েছে। পুত্রসন্তানকে হারিয়ে বুকে ব্যথা চেপে রাখলেও মনে পড়ে। কন্যার দিকে তাকিয়ে সব ভুলে যান বিপু। জীবনে অনেক ঝড় দেখেছেন। বিশ্বাস করেন, গোলপোস্টে খেলতে নামলে অনেক ঝড় আসবে। সেটা সামাল দিয়ে উঠতে হয়। মানুষের জীবনটাও ওরকম। বললেন, ‘ঝড় আসবে, সামাল দিয়ে চলতে হবে।’ টাইব্রেকে খুব দক্ষ মোহামেডানের এই গোলকিপার। আগেও এমন শট ঠেকিয়েছেন তিনি। বলছিলেন, ‘মোহামেডান যদি আমাদের রাখে তাহলে ভালো, আমরা খেলতে রাজি। আর না রাখলে সেটা ভিন্ন কথা।’
