ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান। আর প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। দুই দলের লিগ এখনো শেষ হয়নি। লিগ ম্যাচে আজ দুই চ্যাম্পিয়ন মাঠে নামতে যাচ্ছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কিংসের মাঠে বিকাল ৪টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও রোদের কারণে শুরু হবে বিকাল ৫টায়। তাতে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা ফ্লাডলাইটে দেখা যাবে। আজ বিকালে কুমিল্লায় আবাহনী লিগ ম্যাচে খেলতে নামবে শেখ জামালের বিপক্ষে।
খেলতে পারবেন না ফেডারেশন কাপের সেরা ফুটবলার মোহামেডানের মালির অধিনায়ক সুলায়মান দিয়াবাতে। তার নামে তিন হলুদ কার্ড রয়েছে। দিয়াবাতের বদলে ভেনেজুয়েলার থেকে আসা স্প্যানিশ ফুটবলার দানিয়েল রিকার্ডো খেলবেন। দলের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকিব জানিয়েছেন দানিয়েল দুই তিন জনকে কাটিয়ে ঢুকতে পারেন। সে বার্সেলোনার একাডেমিতে সুযোগ পেয়েছিল, ভালো খেলোয়াড়। তার জন্য কিংসের বিপক্ষে পরীক্ষা হবে আজ।
দিয়াবাতে না খেললেও সে গতকাল দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছে। কোচ আলফাজ ক্লাব আঙিনায় অনুশীলনে নামার আগে বোর্ড রুমে মিটিং করে সবার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন।
মোহামেডানের জন্য কঠিন লড়াই হবে আজ। কারণ এক সপ্তাহের মধ্যে তিনটা বিগ ম্যাচ খেলতে হচ্ছে মোহামেডানের তরুণ ফুটবলারদের। ২৬ মে কুমিল্লায় মোহামেডান-আবাহনী লিগ ম্যাচ। ৩০ মে ফেডারেশন কাপ ফাইনালে মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচ। আজ শক্তিশালী বসুন্ধরার বিপক্ষে মোহামেডান ম্যাচ। ধকল যাচ্ছে। অথচ আজকের পর জুলাইয়ে মোহামেডানের পরবর্তী খেলা।
১৬ খেলায় মোহামেডানের পয়েন্ট ২৩, আজ জিতলে পুলিশের সমান হয়ে যাবে। গোল গড়ে ওপরে ওঠার সুযোগ আছে। লিগে কিংসের একমাত্র হার পুলিশের বিপক্ষে। তিন ম্যাচ হাতে রেখেই কিংস আগেই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে। মিষ্টি বিতরণও শেষ। এখন তারা লিগের বাকি ম্যাচ শেষ করতে পারলেই বাঁচে। কিংসের কর্মকর্তারা মুখে বলছেন বাকি ম্যাচ জিতেই লিগ শেষ করতে চান। মুখে না বললেও বাস্তবতা হচ্ছে লিগ থেকে এখন আর পাওয়ার কিছু নেই তাদের। আবার এটাও ঠিক যে, অযথা ঝুঁকি নিয়ে খেলোয়াড়দের ইনজুরিতে ফেলতে চান না তারা।
লিগে যখন রেলিগেশনের শঙ্কায় পড়েছিল মোহামেডান তখন আলফাজের হাতে তুলে দেওয়া হয় দলকে বাঁচানোর জন্য। সেখান থেকে উঠে এসেছে সাদাকালোরা।
ফেডারেশন কাপের ফাইনালের আগে আরও একটি বড় জয় ছিল মোহামেডানের। এই বসুন্ধরাকে সেমিফাইনালে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল মোহামেডান।
মোহামেডান গোল করে এগিয়ে ছিল। সমতা আনে বসুন্ধরা। আবার মোহামেডান গোল করে সেমিফাইনাল জিতে নেয়। মঙ্গলবার ফাইনালে আবাহনীকে টাইব্রেকে ৪-২ গোলে হারিয়ে মোহামেডান ফুটবলারদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কোচ আলফাজ আহমেদ। পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিলেন আজ বসুন্ধরার ম্যাচ নিয়ে। প্রচণ্ড রৌদে যখন পুড়ছে মানুষ। তখনো আলফাজ তার দল নিয়ে মাঠে।
মোহামেডানের একটা ট্রফি জয়ের আনন্দে দেশের ফুটবলে নতুন জোয়ার। ক্লাব থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যেক ফুটবল দর্শকের কাছে বাড়তি মাত্রা যোগ হয়েছে। আবাহনী ফাইনালে হেরে গেলেও আবাহনী এবং তাদের সমর্থকরাও খুশি হয়েছেন মোহামেডানের জয়ে। মোহামেডান আবার উঠে আসুক ফুটবলের স্রোতধারায়। মোহামেডান-আবাহনী না থাকলে দেশের ফুটবলে আকর্ষণ থাকে না। মাঠে মোহামেডান-আবাহনীর দর্শকদের টেনে আনতে হয়নি। ফুটবলের উত্তেজনায় তারা মাঠে ছুটে গিয়েছিলেন সেদিন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শক খেলা দেখার জন্য ছুটে গিয়েছিলেন কুমিল্লায়। তারা জানিয়ে দিয়েছেন দেশের ফুটবলে মোহামেডান-আবাহনীর গুরুত্ব। দর্শকের কাছে এই দুই দলের কদর আলাদা। ক্লাব ফুটবলে ভালোবাসা শুধুই মোহামেডান-আবাহনীর জন্য।
