মিঠাপুকুরে পল্লী চিকিৎসককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ২২:৪৪

রংপুরের মিঠাপুকুরে এক পল্লী চিকিৎসককে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গ্রামবাসী। রবিবার সকালে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি, পুলিশি হয়রানী ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে এই মানববন্ধনে বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামের সহস্রাধীক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, পুলিশের বিরুদ্ধে রংপুর পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা।

মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ওই গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, মিঠাপুকুরের বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে আবির হোসেন একজন সহজ-সরল মানুষ। পুলিশের দাবিকৃত একলাখ টাকা না দেওয়ায় তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।

আবু বক্কর ছিদ্দিকের মা মোরশেদা বেগম বলেন, সাড়ে চার মাস আগে মিঠাপুকুর উপজেলার মকিমপুর গ্রামের রমজান আলীর মেয়ে রাফেজার সাথে ইসলামি শরীয়া মোতাবেক কাবিন মূলে বিবাহ তার ছেলে আবু বক্কর ছিদ্দিকের সাথে সম্পন্ন হয়। গত ১০/৬/২০১৯ ইং তারিখে বিবাহ অনুষ্ঠানের জন্য রমজান আলীর বাড়ি মকিমপুরে তারা দাওয়াত খেতে যান। সেখানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রমজান আলী ও তার লোকজন বর যাত্রীদের অপমান অপদস্ত করে।

এমনকি আবু বক্কর ছিদ্দিক তার মা মোশেদা বেগম (৪০) ভাই ওসমান গনি (১৫) ও হযরত আলীকে (১২) বেদম মারপিট, চুলের মুঠো ধরে টানা-হেচড়া ও শ্লীতাহানীর মত ঘটনা ঘটায়। এক পর্যায়ে বর যাত্রীর অন্যান্য লোকজন চলে আসে। তারা আবু বক্কর ছিদ্দিক, তার মা ও ভাইদেরকে আটকে রাখে। পরবর্তীতে আবির হোসেনের চাচা মানিক মিয়াসহ বেশ কিছু লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

পরে আবু বক্কর ছিদ্দিকের মা মোরশেদা বেগম মিঠাপুকুর থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মিঠাপুকুর থানার এসআই গোলাম রব্বানী তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মকিমপুর গিয়ে আবু বক্কর ছিদ্দিকের বন্ধু তুষার ও শ্বশুর রমজান আলীকে থানায় নিয়ে আসে। নিয়ে আসার পরে এসআই গোলাম রব্বানী আবু বক্কর ছিদ্দিকের মায়ের কাছে একলাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তা না হলে তার ছেলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের মামলা দেবে বলে হমকি দেয়। এক পর্যায়ে টাকা দিতে না পারায় ১২ পিস ইয়াবাসহ আবু বক্কর ছিদ্দিককে গ্রেফতার দেখিয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি মামলা দেওয়া করেন। যার মামলা নং-২২, তাং ১২/০৬/১৯ ইং। কিন্তু, মূল আপরাধী রমজান আলীকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এদিকে পুলিশের এমন অন্যায় ঘটনার প্রতিকার চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছে আবু বক্কর সিদ্দিকের মা মোরর্শেদা বেগম। পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেয়ার পরেও কোন প্রতিকার না পেয়ে রবিবার বেলা ১১টায় বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামবাসী এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধন থেকে আবু বক্কর ছিদ্দিপলা নিঃশর্ত মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অভিযুক্ত পুলিশের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানানো হয়।

বালুয়া মাসুমপুর ইউয়িনের ইউপি সদস্য মোনায়েম পাইকাড় বলেন, পল্লী চিকিৎসক আবু বক্কর ছিদ্দিক কোনদিন মাদক সেবন বা মাদকের সাথে জড়িত ছিল না। পুলিশ তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়ে অন্যায় করেছে। বালুয়া মাসুমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, আমি যতটুকু জানি আবু বক্কর ছিদ্দিক মাদকসেবী বা মাদক ব্যবসায়ী না।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত এসআই গোলাম রব্বানী বলেন, চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি অসম্ভব। এ বিষয়ে আমি আর কোন মন্তব্য করতে চাই না। মিঠাপুকুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে, এই থানায় কাউকে ফাঁসানো হয় না। আমি এসআই গোলাম রব্বানীর কাছে শুনে দেখব।

ইত্তেফাক/আরকেজি