কক্সবাজারে ৬ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ২২:৩৪

কক্সবাজারের রামু, পেকুয়া ও টেকনাফে পৃথক ঘটনায় ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে শিশু ও বৃদ্ধসহ ৬ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা, হাতির আক্রমণ, বালতির পানিতে ডুবে ও বন্দুকযুদ্ধে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রামু-মরিচ্যা সড়কের থোয়াইংগ্যাকাটা পাইন বাগান এলাকায় পিকআপ ও যাত্রীবাহী মাহিদ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এরা হলেন, রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ছোট জামছড়ি এলাকার মৃত হাকিম মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম (৭০) ও ফতেখারকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীকুলের মৃত অছিয়র রহমানের ছেলে আব্দুর রহমান (৫০) মারা গেছেন।

রবিবার সকালে সংগঠিত এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৫জন আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বেলা ১টার দিকে হাসপাতালে মারা যান তাদের একজন।  

আবার, রামুর খুনিয়াপালংয়ের তুলাবাগান এলাকায় কাঁঠাল রক্ষা করতে গিয়ে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কায়দংপাহাড় এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আবুল বশর (৪৫) হাতির আক্রমণে নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত ৯টার দিকে লোকালয়ে হানা দেওয়া হাতির পাল গাছের কাঁঠাল খাচ্ছিলো। কাঁঠাল রক্ষা করতে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা চালান আবুল বশর। এ সময় একটি হাতি তাকে উল্টো ধাওয়া করে ধরে শুড়ের আঘাতে আছড়িয়ে মেরে ফেলে।

অপরদিকে, কক্সবাজারের পেকুয়ায় বালতির পানিতে ডুবে দেলোয়ার মোহাম্মদ নবাব নামে ১৫ মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকাল ৯টার দিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব গোঁয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু নবাব দৈনিক ভোরের কাগজ ও কক্সবাজারের স্থানীয় দৈনিক রূপসী গ্রামের পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি  শাখাওয়াত হোসেন সুজনের ছেলে। একইদিন বিকালে জানাজা শেষে নবাবকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বাড়ির নলকূপে গোসলের জন্য পানি ভর্তি করা বালতি রেখে বাড়ির শ্রমিকদের কাজ তদারকির জন্য গিয়েছিলেন শিশু নবাবের পিতা সাংবাদিক সুজন। এ সময় সবার অগোচরে পানিভর্তি বালতিতে পড়ে মারা যায় নবাব। সাংবাদিক দম্পতির দুই মেয়ে এক ছেলের সংসারে নবাব সবার ছোট ছিল।  

অন্যদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' রোহিঙ্গাসহ দুই যুবক নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি নিহতরা মানবপাচার মামলার পলাতক আসামি। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার সাবরাং কাটাবুনিয়া নৌকাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়ার বাসিন্দা মৃত রশিদ আহমদের ছেলে মোহাম্মদ রুবেল (২৩) ও উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বি-ব্লকের বাসিন্দা হাবিব উল্লাহর ছেলে উমর ফারুক (১৯)। ঘটনাস্থল থেকে ২টি এলজি, শটগানের ১১টি তাজা গুলি ও ১৮টি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।         

রামু থানার ওসি (তদন্ত) এসএম মিজানুর রহমান, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পেকুয়ার ওসি জাকির হোসেন ভূইয়া তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। 

আরও পড়ুন: যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই বোনের মৃত্যু

তাদের দেওয়া তথ্যমতে, শনিবার রাত ৯টা থেকে রবিবার বেলা ১টা পর্যন্ত সময়ে মাত্র ১৬ ঘন্টার ব্যবধানে এসব অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে বলে ওয়াকিবহাল মহল। এটি শংকার বিষয় বলে দাবি করেছেন তারা।

ইত্তেফাক/নূহু