শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৫ আশ্বিন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ খুলনা গড়তে তালুকদার খালেকের ইশতেহার 

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৩, ১৮:২৫

পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও স্মার্ট খুলনা গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। 

মঙ্গলবার (৬ জুন) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের শহীদ শেখ আবু নাসের ব্যাংকুয়েট হলে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। 

তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, খুলনা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শহর, গর্বের শহর, ভালোবাসার শহর, খুলনা আমাদেরই শহর। ফলে এই শহর নিয়ে তো আমাদেরই ভাবতে হবে। আমাদেরই গড়তে হবে। যেমন করে এক সময়ের ভবিষ্যৎহীন জাকার্তা, ম্যানিলা, কলম্বিয়ার বোগোটা শহরকে তাদের মেয়ররা নতুন করে গড়ে তুলেছেন। তারা পারলে আমরা কেন পারব না?

ইশতেহার ঘোষণায় তিনি বলেন, নাগরিকের সুস্বাস্থ্য’ নগর ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাই সবার আগে নিশ্চিত করতে চাই পরিচ্ছন্ন, সবুজ এবং পরিবেশবান্ধব খুলনা। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি নির্মাণ এবং নগর পরিকল্পনায় সবুজকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। সবুজ খুলনা গড়ে তুলতে এলাকাভিত্তিক পরিকল্পিত বনায়ন করা হবে। বাড়িভিত্তিক সবুজায়ন উৎসাহিত করা হবে। নগর পরিকল্পনায় পরিবেশকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। নগরায়ন হবে পরিবেশবান্ধব। জমি, বায়ু, শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া হবে।

ইশতেহারে দ্বিতীয় দফায় তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, বর্তমানে নগরীর পার্ক ও উদ্যানগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া উন্মুক্ত সুবিধাজনক স্থানে একটি বড় পার্ক, লেডিস পার্ক ও দুটি শিশু পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নদী সংলগ্ন স্থানে ভ্রমণের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। নগরীর দক্ষিণপ্রান্তে উপযুক্ত স্থানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনায়ন সৃষ্টি করে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো হবে। এছাড়া ময়ূর নদীসহ নগরীর ২২টি খাল খনন ও সংস্কার করে এর পাশে বনায়নের মাধ্যমে মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।

ইশতেহারের তৃতীয় দফায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণে তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিক জলাবদ্ধতা দূরীকরণে স্থানীয় ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সাপেক্ষে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হবে। 

নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যান্য প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ড্রেন পরিষ্কার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ, বৃক্ষ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও নিরাপদ স্বাস্থ্যকর খুলনা, সুলভ মূল্যে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা, সূর্যোদয়ের আগেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মাদকমুক্ত নগর গড়ে তোলা, সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, পথচারীবান্ধব ফুটপাত, মানবিক উন্নয়নের খুলনা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান উপযোগী নগরী গড়ে তোলা, সিভিক সেন্টার গড়ে তোলা, অনুদান তহবিল চালু, মিডিয়া সেন্টার চালু ও সেরা সংবাদ পুরস্কার প্রবর্তন, কবরস্থান ও শ্মশান ঘাটের উন্নয়ন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর প্রতিযোগিতার আয়োজন, স্মার্ট ও ডিজিটাল খুলনা গড়া, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মানচিত্র প্রদর্শন, অংশগ্রহণমূলক ও সুশাসিত খুলনা, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস মিটিগেশন সেল স্থাপন, হটলাইন ও নগর তথ্যকেন্দ্র চালু, পরিকল্পনা প্রণয়নে পরামর্শক কমিটি গঠন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটানো, জলাশয় ও পুকুর সংরক্ষণ, শিশুদের সাঁতার শেখানোর বিশেষ উদ্যোগ, নগরীর বাজার আধুনিকায়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়িয়ে সেবার মান বৃদ্ধি, মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে রাস্তার নামকরণ, বধ্যভূমিগুলোর স্মৃতি সংরক্ষণ, যাতায়াত ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খুলনা মহানগরীর সম্প্রসারণে উদ্যোগ।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পারভীন জাহান কল্পনা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, কেসিসি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজী আমিনুল হক, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত কুমার অধিকারী, সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, আশরাফুল ইসলাম, শহিদুল হক মিন্টু, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

 

ইত্তেফাক/এবি/পিও