কেসিসি নির্বাচন

নৌকার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, লাঙ্গল-হাতপাখার চোখ বিএনপির ভোটব্যাংকে

আপডেট : ১০ জুন ২০২৩, ১৪:১৭

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে এসে সরগরম রূপসা পাড়ের শহর খুলনায়। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের কাছে ছুটছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

শনিবার (১০ জুন) মধ্যরাতে শেষ হবে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। একদিন পর সোমবার (১২ জুন) বহু প্রতীক্ষিত ভোটের দিন। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

কেসিসি নির্বাচনে এবার পাঁচ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সদ্য সাবেক মেয়র তালুদকার আব্দুল খালেক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মাওলানা আব্দুল আউয়াল, জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু, জাকের পার্টির মেয়র প্রার্থী এস এম সাব্বির হোসেন ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবার অনেকটাই সাদামাঠাভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। মূলত আওয়ামী লীগের রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে না আসার কারণে কেসিসির নির্বাচন অনেকটাই জৌলুস হারিয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে চার জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল বিএনপির ভোট ব্যাংকের দিকে টার্গেট করে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন।

ফলে প্রচার ও প্রচারণায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক অনেক এগিয়ে থাকলেও কিছুটা হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারেন।

বিশেষ করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় কেসিসি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন। এ অবস্থায় খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কেসিসি নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। একটু অবহেলায় যদি গাজীপুর নির্বাচনের মতো ফলাফলে বিপর্যয় নেমে আসে—এই আতঙ্কে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণায় কোনোরকম অবহেলা করছেন না।

মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধজ্ঞা 

কেসিসি নির্বাচন উপলক্ষ্যে শনিবার রাত ১২টা থেকে আগামী সোমবার (১৩ জুন) মধ্যরাত পর্যন্ত খুলনা মহানগরী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রোববার (১১ জুন) রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা খুলনা নগরীতে ট্রাক, বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, প্রাইভেট কার ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধ থাকবে।

চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা

নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার শেষ মুহূর্তের প্রচার ও প্রচারণায় পাঁচ মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক নেতাকর্মীদের নিয়ে নগরীর রায়ের মহল বাজার থেকে ১৪নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ শুরু করেন। সকাল ১০টা থেকে তিনি নগরীর শেখপাড়া বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। দুপুরে বায়তুন নূর জামে মসজিদে তিনি জুমার নামাজ আদায় করেন। বিকাল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নগরীর ৩০ ও ৩১নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ও তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আগামী ১২ জুন ভোটকেন্দ্রে এসে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রচারণায় পিছিয়ে ছিলেন না জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু। তিনি শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকা, কেডিএ অ্যাভিনিউ ও লবণচরা এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মাওলানা আব্দুল আউয়াল সকালে হাতপাখা মার্কায় ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেন নগরীর গল্লামারী ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায়। এছাড়া জাকের পার্টির মেয়র প্রার্থী এস এম সাব্বির হোসেন ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান মুশফিকও গণসংযোগ করেছেন।

ইত্তেফাক/আরএজে