গ্যালারি কায়ার ১৯ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের দুর্লভ চিত্রকর্ম নিয়ে শুরু হয়েছে প্রদর্শনী। এ প্রদর্শনী থেকে বাঙালি শিল্পীদের আধুনিক চিত্রকলার ক্রমবিকাশের ইতিহাসও উঠে আসবে শিল্পরসিকদের সামনে। বাংলাদেশের স্বনামধন্য শিল্পীদের পাশাপাশি তরুণ এবং উদীয়মান শিল্পীদের ছবি যেমন স্থান পেয়েছে এ প্রদর্শনীতে। পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীদের শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়ায় তা এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। একই সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের বাঙালি শিল্পীদের কাজের ধারার একটা গতি-প্রকৃতিও আগ্রহী দর্শকদের কৌতূহল মেটাবে।
প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে কাইয়ুম চৌধুরী, মুর্তজা বশীর, দেবদাস চক্রবর্তীর চিত্রকর্ম রয়েছে। রয়েছে ভারতের যোগেন চৌধুরী, অজিত শীলের ছবি। এছাড়াও কাজী আবদুল বাসেত, মনিরুল ইসলাম, রফিকুন নবীর চিত্রকর্ম প্রদর্শনীকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। আরও রয়েছে শাহাবুদ্দিন আহমেদ, নিতুন কুণ্ডুর চিত্রকর্ম। তবে, অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদের চিত্রকর্ম শিল্পরসিকদের নজর কাড়বে নিঃসন্দেহে।
গ্যালারি কায়ার পরিচালক শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী জানান, এই প্রদর্শনীতে ৮৪টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। কাজগুলো ১৯৫৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে করা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে শিল্পের বাজার এখনও প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। যদিও শিল্পের প্রতি ভালোবাসায় অনেক শিক্ষার্থী শিল্পকলার পাঠ নিয়ে ছবি আঁকছেন। গ্যালারি কায়া আগামীতে শিল্পী ও সংগ্রাহকদের জন্য একটি শিল্পকলার বাজার গড়ে তুলতে কাজ করে যাবে। তিনি জানান, গত ১৯ বছরে গ্যালারি কায়া নবীন এবং প্রবীণ শিল্পীদের একক এবং দলীয় ১৩৭টি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এছাড়া দেশে ও দেশের বাইরে ৭টা আর্ট ক্যাম্প, ৩১টা সফল আর্ট ট্রিপ, ৭টা ওয়ার্কশপ এর আয়োজন করেছে।
প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া অন্য শিল্পীরা হলেন-আবদুশ শাকুর শাহ, আবুল র্বাক আলভী, আহমেদ শামসুদ্দোহা, অজিত শীল, আলপ্তগীন তুষার, অমিতাভ ব্যানার্জি, আনিসুজ্জামান, আশরাফুল হাসান, অতীন বসাক, আজমীর হোসেন, বিমল কুন্ডু, চন্দ্র ভট্টাচার্য্য, চন্ত্র শেখর দে, ফরিদা জামান, গনেশ হালুই, গৌতম চক্রবর্তী, হামিদুজ্জামান খান, কামরুজ্জামান সাগর, কনক চাপা চাকমা, কাজী রকিব, মাহমুদুর রহমান দীপন, মানু পারেখ, মোহাম্মদ ইউনুস, মোহাম্মদ ইকবাল, নগরবাসী বর্মণ, নিরঞ্জন প্রধান, রণজিৎ দাস, রতন মজুমদার, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, সনৎ কর, শাহনুর মামুন, শহিদ কবীর, শেখ আফজাল হোসেন, শিশির ভট্টাচার্য্য, সোহাগ পারভেজ ও সুনীল দাস।
সম্প্রতি, প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দীন মাহমুদ। প্রদর্শনী চলবে ১৭ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা।
