মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে এক নরসুন্দরকে রাতভর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শনিবার (১০ জুন) দুপুরে ডাসার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ভুক্তভোগীর স্ত্রী অপু শীল।
অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম সৈয়দ শাহনেওয়াজ হোসেন ওরফে লিংকন (৩২)। তিনি ডাসার উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ কামরুজ্জামানের ছেলে ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি পদে রয়েছেন।
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত সৈয়দ শাহনেওয়াজের দুই সহযোগী মোকলেস খান (৩৬) ও শফিকুল ইসলামকে (৩২) আটক করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা নরসুন্দর উত্তম শীল (৪০)। তার উপজেলার বায়তুল নূর মসজিদ মার্কেটে একটি সেলুন রয়েছে। গত চার মাস আগে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সৈয়দ শাহনেওয়াজের কাছ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা সুদে নেন তিনি। উত্তম গরীব হওয়ায় প্রতি মাসে সুদের টাকা ঠিকমত পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। এ জন্য নিয়মিত উত্তমকে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিতে থাকেন সৈয়দ শাহনেওয়াজ ও তার সহযোগীরা। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে উত্তমকে ডাসার বাজারে একা পেয়ে তুলে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখে সৈয়দ শাহনেওয়াজ ও তার লোকজন। সুদ ও আসল টাকা না দেওয়া তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে দোকানের চাবি রেখে ভোররাতে উত্তমকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে এই ঘটনায় উত্তমের স্ত্রী অপু শীল ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ শাহনেওয়াজ ও তার সহযোগিদের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনার পর থেকে সৈয়দ শাহনেওয়াজ এলাকায় গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার দুই সহযোগী মোকলেস ও শফিকুলকে আটক করেন।
ভুক্তভোগী উত্তম শীলের স্ত্রী অপু শীল বলেন, আমরা গরীব মানুষ ঠিকমতো দুবেলা পেট চলাইতে পারি না। অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়া থাকি। এখন সুদের টাকা কীভাবে দিবো। সুদের টাকা দিতে না পারায় আমার স্বামীকে ওরা তুলে নিয়ে সারারাত নির্যাতন চালাইছে। শাহনেওয়াজ হুমকি দিয়ে বলেছে, টাকা না দিতে পারলে মেরে গুম করে ফেলবে। আমাদের দোকানের চাবিও রেখে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ শাহনেওয়াজ মুঠোফোনে বলেন, আমি এ সব বিষয়ে কিছুই জানি না। আর এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে আমার নাম কেন আসছে তা বলতে পারব না। সুদের টাকা নেওয়ার বিষয়ও তিনি অস্বীকার করেন।
ডাসার থানার ওসি হাসানুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, পাওনা টাকার জন্য এক নরসুন্দরকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। যদি তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে মামলা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আমরা প্রাথমিকভাবে দুজনকে আটক করেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
