জনজীবনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

আপডেট : ১২ জুন ২০২৩, ০৩:৫৭

একবিংশ শতাব্দীতে তথ্য আদান-প্রদানের সবচেয়ে সহজ ও সুলভ উপায় হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক’। দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে দিনমজুর—অনেকেই ফেসবুকের স্পর্শের বাইরে নেই। এমনকি দেশের সব থেকে বড় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ফেসবুকের সফল বিচরণ। প্রযুক্তির উন্নতিতে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সারা বিশ্বেই আজ ফেসবুক ব্যবহারকারীর জয়জয়কার।

ফেসবুক ব্যবহার করে যে কোনো তথ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে দেওয়া যায় দেশব্যাপী-বিশ্বব্যাপী। যদিও এক্ষেত্রে আমাদের কিছু নীতিমালা অনুসরণ করার প্রয়োজন পড়ে। তবে মনে রাখতে হবে, এতে যাতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক দিকগুলো থেকে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। কিন্তু এসব নীতিমালা যদি কোনো ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের স্বাধীনতাকেই হরণ করে, তাহলে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

সহজলভ্যতা ও জনপ্রিয়তার কারণে ফেসবুকে মানুষ তার ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবনের খুঁটিনাটি, বিশেষ অর্জন, সুখস্মৃতি, দুঃখস্মৃতিসহ সবধরনের অনুভূতি শেয়ার করার পাশাপাশি আলোচিত-সমালোচিত অথবা প্রয়োজনীয় যে কোনো বিষয় সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি, মতামত, চিন্তাধারা শেয়ার করে থাকে বেশ অবলীলায়। স্বাভাবিকভাবে বিবেচনা করলে এতে কোনো নেতিবাচকতা নেই। বরং এতে পরস্পরের ভাব বিনিময় হয়, অন্যের চিন্তাধারা সম্পর্কে জানা যায়। এমনকি এর মাধ্যমে বিভিন্ন সৃষ্টিশীল চিন্তাধারা ও সকলের সামনে আসতে দেখা যায়। আবার অনেকের যথাযথ তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে নিজের অসুবিধার কথা শেয়ার করে তা থেকে উপকৃত হওয়ার উদাহরণও কম নেই। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় জনজীবনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বেশ ইতিবাচক বলেই ধরে নেওয়া যায়।

যা হোক, দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের যে কোনো বিষয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার সকলের রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ পাস হয়। এ আইনটি প্রস্তাবের পর থেকেই গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিকমাধ্যমের কর্মীসহ বিভিন্ন মহল তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। কিন্তু আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই এর প্রয়োগ শুরু হয়েছে এবং সরকারি হিসাব মতে এখন অবধি এই আইনের আওতায় ৭ হাজারের অধিক মামলা হয়েছে। অর্থাত্, বাঙালির স্বকীয় অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে বাক্স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তা চর্চা নিশ্চিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব মাধ্যমকে যথাসম্ভব অবারিত রাখতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচিত কিছু ধারায় পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন