পার্বত্যাঞ্চলে আতঙ্ক

চাঁদাবাজি, খুন ও অপহরণে জড়িত কেএনএফ সদস্যরা

আপডেট : ১২ জুন ২০২৩, ১৪:১৯

পাহাড়ের আতঙ্ক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। তারা খুনোখুনি, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও জঙ্গিদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে বারবার আলোচনায় আসছে। তবে তাদের সব ঘাঁটি দখলে নিয়েছে সেনাবাহিনী। কিন্তু আত্মগোপনে থেকে ছিনতাই, অপহরণ ও চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে কেএনএফ সদস্যরা। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে এ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর চার জন সদস্য জীবন দিয়েছেন। তবে সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে পালটা ব্যবস্থা না নিয়ে ঠান্ডা মাথায় পেশাদারিত্বের মাধ্যমে তাদের সব ঘাঁটি দখল করতে সক্ষম হয়েছেন। একই সঙ্গে পার্বত্যাঞ্চলে মানবাধিকার নিশ্চিত করেছেন। আর সেনাবাহিনীর এই অভিযানে কেএনএফের কতজন হতাহত হয়েছে তা জানা যায়নি। তাদের কেউ হতাহত হলে গোপন রাখা হয়। 

বর্তমানে কেএনএফের অধিকাংশ সদস্য পালিয়ে গেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মিয়ানমারে। এই দুই দেশেও রয়েছে কুকি চিন সম্প্রদায়ের মানুষ। সেখানেও তারা নানা অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। উভয় দেশের জন্য তারা হুমকি। পার্শ্ববর্তী দেশে অস্ত্রসহ কেএনএফের ১০ জন গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের কিছু সদস্য পার্বত্যাঞ্চলের গহিন অরণ্যে থেকে চাঁদাবাজি ও অপহরণ করছে। সম্প্রতি বান্দরবানের রুমায় আট শ্রমিককে অপহরণ করে কেএনএফ সদস্যরা। টাকার বিনিময়ে ছয় জন মুক্তি পেয়েছেন। এখনো দুই জন আটক রয়েছেন তাদের হাতে।

কেএনএফ প্রধান হলেন নাথান বম। জেএসএস (মূল)-এর ছত্রছায়ায় তিনি রয়েছেন। খুমি, লুসাই, খেয়াং, পাংখোয়া, ম্রো—এই পাঁচ সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের নামে জেএসএসের (মূল) শীর্ষ নেতার হাত ধরে ও তার প্রশ্রয়ে কেএনএফ প্রতিষ্ঠা করেন নাথান বম। পার্বত্যাঞ্চলে নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ দুর্গম পাহাড়ে বর্তমানে জেএসএস (মূল), জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (মূল) ও ইউপিডিএফ (সংস্কার)—এই চারটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয়। এই চার সংগঠনের মূল কাজ চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন ও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। পার্বত্যাঞ্চলের অন্য সংগঠনগুলোও কেএনএফকে সহযোগিতা করছে বলে পাহাড়ি-বাঙালিদের দাবি। কুকি চিন পার্বত্যাঞ্চলে যুদ্ধ অবস্থার মতো সৃষ্টি করেছিল। এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের রেখে দেওয়া বিস্ফোরক সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিষ্ক্রিয় করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদানের চুক্তিও স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু সে কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ প্রদান বেশি দিন টিকিয়ে রাখতে পারেননি। র?্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সেই প্রশিক্ষণ আস্তানা তছনছ হয়ে যায়। জঙ্গি প্রশিক্ষণ ধরা পড়ার পর কুকি চিনের প্রধান নাথান বমের একের পর এক অপকর্ম বেরিয়ে আসে। জেএমবি ট্রেনিং, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচারের সঙ্গেও নাথান বম জড়িত।

কেএনএফের সব ঘাঁটি দখল করায় সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ ও অভিবাদন জানিয়েছেন পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ। তারা কুকি চিনসহ অন্য সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে নির্মূল করার দাবি জানিয়ে বলেন, সংগঠন থাকতে পারে। তবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুনসহ দেশের বিরুদ্ধে সংগঠন থাকবে না। তারা দেশের বিরুদ্ধে সংগঠন গড়ে তুলেছে। তারা দেশ ও জনগণের শত্রু। এ কারণে তাদের নির্মূল করা প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর চার জন সদস্য নিহত হওয়ায় মর্মাহত পাহাড়ি-বাঙালিরা। তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড হতে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের অপপ্রয়াসে লিপ্ত সশস্ত্র সংগ্রাম করা ‘কেএনএফ’-এর সঙ্গেও আরো কয়েকটি সংগঠনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ও সীমান্তের জন্য বান্দরবানের রুমা এলাকায় জন্য একটি সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানান। 

 

ইত্তেফাক/ইআ