ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণের সময় প্যারিসের রোঁলা গারোর লাল দূর্গে যে দৃশ্যের সৃষ্টি হয়, সেটিকে সঠিকভাবে আখ্যায়িত করার কোনো ভাষা বা শব্দই যেন আবিষ্কৃত হয়নি! একই দৃশ্যের এক পাশের অংশ সাক্ষ্য দিচ্ছিল ছেলেদের এককে সর্বকালের সর্বোচ্চ গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তের। রেকর্ড ২৩তম গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা জয়ের পর ট্রফি হাতে অনন্য উচ্চতায় পা রাখার রোমাঞ্চে হাসছিলেন নোভাক জোকোভিচ। প্রশ্ন উঠতেই পারে এই জোকোভিচ থমাবেন কোথায়? ক্যারিয়ার শেসে তার নামের পাশে কয়টি গ্র্যান্ড স্লামের সংখ্যা লেখা লাগবে?
এদিকে, রোঁলা গারোর ঐ মঞ্চে জোকোভিচের পাশেই ক্যারিয়ারে তৃতীয় বারের মতো গ্র্যান্ডস্লাম এককের ফাইনালে হারের পর স্বপ্নভঙের বেদনায় অঝোরে কাঁদচ্ছিলেন ক্যাসপার রূড!
রোঁলা গারোর লাল কোর্টে সৃষ্টি হওয়া দৃশ্যটা জীবনেরই বাস্তবরূপ। একটু আগে এই ক্যাসপার রূডকে হারিয়েই ফ্রেঞ্চ ওপেনের পুরুষ এককে তৃতীয় বারের মতো শিরোপা জিতেছেন জোকোভিচ। সরাসরি ৭-৬ (৭-১), ৬-৩, ৭-৫ গেমে জয়ের মাধ্যমে এই শিরোপা দিতেই সার্বিয়ান তারকা পা রাখেন ২৩-এর উচ্চতায়। যে উচ্চতায় বিশ্ব টেনিসের পুরুষ এককে আরো কোনো তারকাই পা রাখতে পারেনি। গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে জোকোভিচ ছুঁয়ে ফেলেছিলেন নাদালের সর্বোচ্চ ২২ গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা জয়ের রেকর্ড। পরশু ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে সেই নাদালকে দুইয়ে ঠেলে জোকোভিচ উঠে গেলে সবার উপরে।
বিশ্ব টেনিসবোদ্ধাদের অনেকেরই অভিমত, পরশু ক্যাসপার রূডকে হারিয়ে জেতা শিরোপাটা জোকোভিচের জন্য শুধুই আরেকটি গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা নয়, এর মধ্য দিয়ে সার্বিয়ান তারকা আসলে সর্বকালের সেরার দৌড়েই এগিয়ে গেলেন একধাপ! নাদাল ও রজার ফেদেরার পড়ে গেল তার পেছনে। বিবিসি, ইনডিপেনডেন্টসহ বিশ্বের অনেক অনেক বিখ্যাত গণমাধ্যমেরই এমন রায়।
২০০৯ সালে উইম্বলডনের শিরোপা জয়ের মধ্যদিয়ে রজার ফেদেরার যখন পিট সাম্প্রাসের ১৪ গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপার রেকর্ড ভেঙে ১৫ গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের নতুন রেকর্ডটি গড়েন, তখন কেউ ভাবতেই পারেননি ফেদেরারের রেকর্ড কেউ ভাঙবে। ২৩ গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের বিষয়টি ছিল কল্পনারও বাইরে! জোকোভিচ কল্পনার বাইরের সীমার সেই অসম্ভবই সম্ভব করে ফেললেন। আগামী মাসেই হয়তো সংখ্যাটা তিনি ২৪-এও উন্নীত করে ফেলবেন! আগামী মাসেই যে উইম্বলডন টুর্নামেন্ট। এরপর রয়েছে ইউএস ওপেন। মানে এই বছরই জোকোভিচ সুযোগ পাবেন নিজেকে আরো উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার।
সেটা না পারলেও জোকোভিচের কিছু যায়-আসে না। ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের মধ্যদিয়েই সার্বিয়ান তারকা অমরত্বের আসন পেয়ে গেছেন। পরশু ২৩-এর উচ্চতায় পা রাখার পথে জোকোভিচ আরো দুইটা রেকর্ড গড়েছেন। গড়েছেন সবচেয়ে বেশি বয়সে ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের রেকর্ড। এখানেও তিনি ভেঙে দিয়েছেন নাদালের রেকর্ড। গত বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনে ১৪তম শিরোপা জয়ের দিন নাদালের বয়স ছিল ৩৬ বছর ২ দিন। পরশু জোকোভিচের বয়স ছিল ৩৬ বছর ২০ দিন। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চারটি গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টেই অন্তত ৩টি করে শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়লেন তিনি। এই শিরোপা জয়ের মাধ্যমে বিশ্ব র্যাংকিংয়েও আবার এক নম্বরে উঠে এসেছেন সার্বিয়ান তারকা। জোকোভিচ তো হাসবেনই, তার তো হাসিরই দিন!
নিজের অর্জনকে নিজেই ‘অবিশ্বাস্য’ আখ্যায়িত করে সার্বিয়ান তারকা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে, আমি আমার জীবনে ২৩টি গ্র্যান্ড স্লাম জিততে পেরেছি। সত্যিই এটা অবিশ্বাস্য। ৭ বছর বয়সেই আমি স্বপ্ন দেখতাম, আমি একদিন উইম্বলডন জিতব, বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় হব। সেই আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে। আমি কৃতজ্ঞ এবং ধন্য।’
পুরুষ এককে সর্বোচ্চ তিন গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী
নোভাক জোকোভিচ ২৩টি
রাফায়েল নাদাল ২২টি
রজার ফেদেরার ২০টি
জোকোভিচের ২৩ গ্র্যান্ড স্লাম
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ১০টি
ফ্রেঞ্চ ওপেন ৩টি
উইম্বলডন ৭টি
ইউএস ওপেন ৩টি
