ক্রীড়াঙ্গনে ‘প্রতিশোধ’ শব্দটি খুবই প্রচলিত। জনপ্রিয়ও। আগের সাক্ষাতের ফলাফলের গুরুত্বের বিচারে পরের সাক্ষাৎটি অনেক সময়ই অনেক দলের জন্য প্রতিশোধের মিশন হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ দলের জন্য আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া একমাত্র টেস্টটি ঠিক তেমনই ‘প্রতিশোধের’ মিশন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আজ যে আবার সেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ।
সেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে, যাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক বেদনার কাব্য লেখা হয়ে আছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে যতগুলো কষ্ট ও হতাশার কালো দাগ আছে, ২০১৯ সালে আফগানিস্তানের টেস্ট হারটি তার অন্যতম। সেটি ছিল সদ্য টেস্ট আঙিনায় পা রাখা আফগানিস্তানের সবেমাত্র তৃতীয় টেস্ট। ততদিনে বাংলাদেশ ১০০-এর বেশি টেস্ট খেলে ফেলেছে। তাছাড়া একমাত্র সেই টেস্টাও ছিল বাংলাদেশের ঘরের মাঠে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।
নবাগত আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশ স্পষ্টই ছিল ফেভারিট। অথচ মাঠের লড়াইয়ের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। রশিদ খানের নেতৃত্বে আফগানিস্তান সাকিব আল হাসানের বাংলাদেশকে নাস্তানুবাদ করেই ছেড়েছিল। ম্যাচে আফগানদের এতটাই দাপট ছিল যে, অসহায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে বৃষ্টিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। ম্যাচের অনেকটা সময় খেয়ে নিয়েছিল বৃষ্টি। তার পরও বাংলাদেশ হার থেকে বাঁচতে সক্ষম হয়নি। বৃষ্টি সহায়তার পরও টেস্টের শেষ দিন বিকালে হুড়মুড় করে একের পর এক উইকেট ভেঙে পড়ায় পরাজয় মেনে নেয় সাকিবের দল। সাকিব-মুশফিকদের হতাশায় ঢেকে দিয়ে তাদের সামনেই ২২৪ রানের বিশাল জয়ের উল্লাসে ফেটে পড়েন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবিরা।
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের ক্রিকেটীয় চেতনায় এখনো সেই পরাজয়ের ক্ষত দগদগে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ক্ষতটা আরো বেশি দগদগে সেটি অনুমিতই। সেই হারটা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় মর্যাদা ও বড় আঘাত। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে সেই বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ দল। অবশেষে সুযোগ এসেছে সেই হারের বদলা নেওয়ার। সুযোগটা বাংলাদেশ আবার পেয়েছে নিজেদের মাটিতেই।
সেই হারের কারণেই আজ শুরু হওয়া একমাত্র টেস্টটি বাংলাদেশের জন্য শুধুই একটা ম্যাচ নয়, অগ্নিপরীক্ষা। এবারও যদি হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়, সেটি হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট মর্যাদার ওপর আরো বড় আঘাত। সুতরাং নিজেদের সম্মান রক্ষার্থে মিরপুর টেস্টের ফল অবশ্যই বাংলাদেশকে নিজেদের পক্ষে আনতে হবে!
মজাটা হলো, আজকের এই মিশনে সেদিনের ম্যাচের দুই দলের অধিনায়কই নেই। রশিদ খান এবং সাকিব আল হাসান। দুজনেই চোটের কারণে দলের বাইরে। বাংলাদেশ দলে আরো একটি ব্যাপার আছে। সেই টেস্টেও বাংলাদেশ দলে ছিলেন না ওপেনার তামিম ইকবাল। আজ থেকে শুরু হওয়া টেস্টেও থাকছেন না তামিম। ঘোষিত দলে রাখার পরও পুরোপুরি সুস্থ নন বলে তামিমকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ।
তবে দল যেমনই হোক, যারাই খেলুক, লড়াইটা বাংলাদেশ আর আফগানিস্তানের। লড়াইটা সেই টেস্টের। যেখানে ক্ষত শুকানোর জ্বালা আছে বাংলাদেশের। লিটন কুমার দাস, মুশফিকরা পারবেন টেস্টটা জিতে, নিজেদের হৃদয়ের সেই ক্ষত শুকাতে?
সাকিব আল হাসানের পরিবর্তে আজ টেস্টে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন কুমার দাস। রশিদ খানের পরিবর্তে আফগানিস্তানের নেতৃত্বভার চেপেছে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হাসমতউল্লাহ শহিদির কাঁধে। পাঁচ বছর আগে এই দুজনই ছিলেন নিজ নিজ দলে। ফলে চট্টগ্রামের সেই স্মৃতিটা দুজনের স্মৃতিতেই গাঁথা। লিটন দাসের হৃদয়ে ক্ষতের দাগ। হাসমতউল্লাহ শহিদির স্মৃতিটা অবিস্মরণীয় এক জয়ের। যে জয়টি আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা। তাই হাসমতউল্লাহ শহিদিরাও নিশ্চয় চাইবেন আরেক বার বাংলাদেশকে টেস্টে হারিয়ে এটা প্রমাণ করতে যে, তাদের আগের জয়টি মোটেও ফ্লুক ছিল না।
