বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বগুড়ায় ১২ বিএনপি নেতাকে আজীবন বহিষ্কার

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৩, ১৮:৫১

আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিতব্য বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার তালোড়া পৌরসভা নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ১২ নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে বিএনপি। বুধবার (১৪ জুন) এই বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেনে বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা। 

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ জুন) কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১২ জন ও সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তালোড়া পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তালোড়া পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আবদুল জলিল খন্দকার। তিনি নির্বাচনে জগ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। 

এছাড়া তালোড়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু হোসেন সরকারও মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি লড়ছেন নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে। আবদুল জলিল খন্দকারের সাবেক স্ত্রী আউলিয়া খন্দকার লড়ছেন ইস্ত্রি প্রতীক নিয়ে। এ ছাড়া দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে পৌরসভার ৯টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১০ জন নেতা প্রার্থী হয়েছেন। 

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা হলেন, তালোড়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুল জলিল খন্দকার, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু হোসেন সরকার, সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ও পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রাজা, সহ-সভাপতি আবদুল মান্নান, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি হারুন তরফদার, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম আলী, পৌর বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ তানভীর আহমেদ, শ্রমিক দলের পৌর শাখার সভাপতি আবদুল জলিল প্রামাণিক, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইসরাফিল ইসলাম, পৌর বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক হাসেম আলী প্রামাণিক, পৌর বিএনপির সদস্য মারুফ হোসেন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী পৌর বিএনপির সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সোনিয়া রাজভর।

কেন্দ্রীয় বিএনপির ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তালোড়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র, সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ১২ নেতা। ৯ জুন কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চাওয়া হয়। কিন্তু কেউ সেই নোটিশের জবাব দেননি। এ জন্য এই ১২ জনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলসহ সব পর্যায় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মেয়র প্রার্থী ও তালোড়া পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুল জলিল খন্দকার বলেন, '২০১৩ সালের পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়াই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে কিছু নেতার কারণে পরাজিত হয়েছি। এবার বিএনপি ভোট বর্জন করলেও ভোটারদের চাপে প্রার্থী হয়েছি। জনগণের মতামতকে সম্মান জানাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি। দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে এটা জেনেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই।'

আরেক মেয়র প্রার্থী আবু হোসেন সরকার বলেন, 'এক সময় পৌর বিএনপির সভাপতি পদে থাকলেও এখন দলে পদ-পদবি নেই। বহিষ্কার করলে করার কিছুই নেই।' 

বগুড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার বলেন, 'আমাদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। এই নীতি মানতে হবে। নীতি ঠিক না থাকলে দলের শৃঙ্খলাও ঠিক থাকবে না। এ জন্য তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে আরও কঠোর হবো।'

এদিকে ভোটের মাঠে রয়েছেন বিএনপি নেতা আবদুল জলিল খন্দকারের সাবেক স্ত্রী আউলিয়া খন্দকার। তিনি ইস্ত্রি প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে লড়ছেন। আউলিয়া খন্দকার বলেন, 'কাউকে ঠেকানোর জন্য নির্বাচন করছি না। মেয়র নির্বাচিত হলে মানুষের সেবা করতে পারব, এমন চিন্তা থেকেই নির্বাচনে লড়ছি।'

এছাড়া মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র আমিরুল ইসলাম বকুল (নৌকা), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এসএম সাহিদ (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম (হাতপাখা) নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে লড়ছেন।  

ইত্তেফাক/জেডএইচ