বিশ্ববিদ্যালয় হলো একটি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ, যেখানে জ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয়, মানুষ তৈরির কারখানা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজই হলো শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করা। উন্নত বিশ্বের দিকে চোখ বোলালে উঠে আসে, সেসব দেশে গত্বাঁধা মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার পরিবর্তে গবেষণার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে, এর উলটো চিত্র ফুটে ওঠে। এখানে গবেষণার পরিবর্তে চলে গত্বাঁধা সনাতনি পাঠদান পদ্ধতি, যা কাম্য নয়।
বর্তমানে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও, বাড়ছে না গবেষণা। বিভিন্ন কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার পরিবেশ অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। এতে করে ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হয়ে উঠছে গবেষণাবিমুখ। এর মূল কারণ হলো বিভিন্ন দলমত ও অপরাজনীতির ছোঁয়া, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে অপর্যাপ্ত বাজেট, অস্বাভাবিক পরিবেশ এবং গবেষণায় শিক্ষকদের অনীহা। অনেকে তো জ্ঞানচর্চা আর গবেষণাকে অযথা সময় নষ্ট করার বোকামি মনে করেন। ফলে দেশে গবেষণার সুযোগ বাড়লেও, গবেষণা হচ্ছে না।
এতে করে বাস্তব ও পরিপূর্ণ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। উচ্চশিক্ষার মানও ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী হচ্ছে। বলা চলে, বর্তমানে দিনদিন দেশে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ কারিগরি, বাস্তব ও পরিপূর্ণ শিক্ষার অভাব। গবেষণা না হওয়ায় বিশ্ব র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থানও খুবই হতাশাজনক। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেকার তৈরির কারখানায় পরিণত হবে, যা হবে দেশের জন্য অভিশাপ।
পরিসংখ্যান বলছে, গবেষণা ছাড়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক বলয়ে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গবেষণার অবদান অনস্বীকার্য। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এর মূল স্রোতে নিয়ে আসতে গবেষণার প্রতি জোর দিতে হবে। জ্ঞানই মুক্তির একমাত্র উপায়। দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য জ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার কোনো বিকল্প নেই। প্রথমত, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ এবং সংস্কৃতি তৈরি করে দিতে হবে। পাশাপাশি নজর দিতে হবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর। কেননা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে না পারলে টিকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা পিছিয়ে যাব।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং গবেষণায় শিক্ষকদের হতে হবে আরো মনোযোগী। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অপরাজনীতির ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে এসে মনোনিবেশ করতে হবে শিক্ষা নিয়ে গবেষণার কাজে। তবেই দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য সার্থক হবে।
লেখক : শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
