প্রতিবন্ধীদেরকে উন্নয়নে অংশীদার করার দাবি জানিয়েছে সংক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী নাগরিক সমাজ। বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সকাল ১০ টায় জাতীয় জাদুঘরের পাদদেশে ১১ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সংক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী নাগরিক সমাজ। অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা এমন দাবি জানান।
অবস্থান কর্মসূচিতে সংক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ইফতেখার মাহমুদ বলেন, জাতীয় বাজেটে আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। গত ৩০ বছর ধরে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সকলের কাছে আমাদের দাবি সমূহ লিখিত আকারে দিয়েছি। আমরা বিনিময়ে তিনটা জিনিস পেয়েছি। প্রথমত, আমাদের জন্য ১০ শতাংশ কোটার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তার বাস্তবায়ন নেই। দ্বিতীয়ত পেয়েছি জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন। কিন্তু সেখান থেকে প্রতিবন্ধীরা কোন সুযোগ সুবিধা পায় না। আর পেয়েছি ভাতা। ২০০৫ সালে ২০০ টাকা দিয়ে শুরু হয় ভাতা কার্যক্রম। এখন পাচ্ছি ৮৫০ টাকা। আমাদের জন্য এই ভাতা যথেষ্ট নয়।পর্যায়ক্রমে এই ভাতা বাড়ানোর কথা বলা হলেও ভাতা সেভাবে বাড়ানো হচ্ছেনা।
তিনি আরও বলেন, আমরা কর্মসংস্থান পাইনা, চাকরি পাই না। আমাদের এই মানবেতর জীবন আর সহ্য করতে পারছি না। বাংলাদেশ অনেক সূচকে উন্নত হচ্ছে কিন্তু প্রতিবন্ধী উন্নয়নে বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে না৷ গত ৪ জুন আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দাবি নিয়ে যেতে চেয়েছি কিন্তু আমাদের পুলিশ আটকে রেখেছে। ১২ জন ভাইয়ের রক্ত ঝরিয়েছে তারা। আমরা তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। আমরা স্বাধীন দেশ চেয়েছি একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার জন্য। কিন্তু এই স্বাধীন দেশেই আমরা আজ বৈষম্যের শিকার।
তিনি আরও বলেন, আজকে পুলিশ আমাদের মাইক নিয়ে গেছে। আমাদের এখানে আন্দোলনে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে যেন আমরা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। আমাদের চতুর্দিকে পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছে যেন আমরা সরকার বিরোধী কোন আন্দোলনে নেমেছি। আমদের দাবিগুলো অরাজনৈতিক। বঙ্গবন্ধু চেয়েছে বাঙ্গালীর অধিকার। আমরা আর আশ্বাস চাইনা আমরা চাই বাস্তবায়ন। আমাদের কণ্ঠ আর অবরুদ্ধ করা যাবে না।
তাদের ১১ দফা দাবিগুলো হলো– ২০২৩-২৪ বাজেটে প্রতিবন্ধীদের ভাতা ন্যুনতম ৫ হাজার টাকা ও শিক্ষা উপবৃত্তি মাসিক ২ হাজার টাকা করা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভাতা উপবৃত্তি উভয় বরাদ্দ করা, প্রতিবন্ধীদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগে বিশেষ নীতিমালা করা, চলতি বাজেটে ১ হাজার কোটি টাকা প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তা তহবিল গঠন করা, অনতিবিলম্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি উন্নয়ন অধিদপ্তর কার্যকর করা, সকল প্রতিষ্ঠানে বাংলা ইশারা ভাষার দোভাষী নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় শ্রুতিলেখক নীতিমালা প্রণয়ন করা, প্রতিবন্ধীদের একটি বাড়ি একটি খামার ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করা, গুরুতর প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্য ও কেয়ারগিভার ভাতা চালু করা, প্রবেশগম্য অবকাঠামো ও গণপরিবহন নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ করা, সকল পর্যায়ে প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, মন্ত্রণালয় ভিত্তিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংবেদনশীল বাজেট দেওয়া।
