পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার সাবেক ওসি সৈয়দ আব্দুল্লাহ, তার স্ত্রী এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ১৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পিরোজপুরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ বাদী হয়ে স্থানীয় দুদক কার্যালয়ে এ মামলা করেন।
অভিযুক্ত সৈয়দ আব্দুল্লাহ বর্তমানে ফেনী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক (ক্রাইম শাখা) কর্মরত আছেন। তিনি ২০১৯ সালের মার্চ হতে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার ওসি হিসাবে কর্মরত ছিলেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন, সৈয়দ আব্দুল্লাহর স্ত্রী ফারহানা আক্তার ও শাশুড়ি কারিমা খাতুন।
জানা গেছে, সৈয়দ আব্দুল্লাহ ১৯৯১ সালে পুলিশের উপ-পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন। সৈয়দ আব্দুল্লাহ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া গ্রামের সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদক ও চোরাকারবারীদের সঙ্গে সখ্যতা, মিথ্যা মামলার রেকর্ড ও অনৈতিকভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য ২০২০ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয় হতে বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়কে অনুসন্ধানের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে দুদক পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় উদ্বোধনের পর অভিযোগটি স্থানীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আসামি সৈয়দ আব্দুল্লাহ প্রতারণার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী ফারহানা আক্তারের নামে দুটি এনআইডি কার্ড তৈরি করেন। যার নম্বর-৬৮৬১৩০১৮৩৩ ও ৮৭০৮২০৩৮৬৭। উল্লেখিত দুটি এনআইডি’র বিপরীতে আসামি ফারহানা আক্তার টেক্স শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন)-৪৬৯৩৯৪২৮১৮১২ এবং ৫৮২৪১২৬৫৭৪৫৫ গ্রহণ করেন। এরপর বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত হিসাব খোলেন। তিনি ১ কোটি টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র ক্রয় ও ১ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫৪ টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা, ৩১ লাখ টাকায় গাড়ি ক্রয়সহ ৩ কোটি ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫৪ টাকা সাতাত্তর পয়সার অস্থাবর সম্পদ কিনেন।
এছাড়া আসামি সৈয়দ আব্দুল্লাহ নিজ নামে দুটি প্লট, স্ত্রী ফারহানা আক্তারের নামে দু’টি আবাসিক ফ্ল্যাট, একটি বাণিজ্যিক স্পেস, স্ত্রী ফারহানা আক্তারের ব্যাংক হিসাব হতে অর্থ পরিশোধ করে শাশুড়ি কারিমা খাতুনের নামে একটি আবাসিক ফ্ল্যাট বাবদ মোট ১৫ কোটি ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৪শ বত্রিশ টাকার অধিক মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রয়ের তথ্য পাওয়া যায়। আসামিদের নামে মোট ১৫ কোটি ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৪১৫ টাকার স্থাবর ও ৩ কোটি ৭ লাখ ৯৫ হাজার আটশত চুয়ান্ন টাকা সাতাত্তর পয়সার অস্থাবর সম্পদসহ সর্বমোট ১৮ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার দুইশত ছিয়াশি টাকার স্থাবর/অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। আসামি সৈয়দ আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী হিসাবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার পদমর্যাদার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ জ্ঞাতসারে নিজের নামে এবং স্ত্রী ফারহানা আক্তার ও শাশুড়ি কারিমা খাতুনের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এসব সম্পদ করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা ও দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪২০/১০৯ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২), ৪(৩) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা মামলাটির তদারক করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার মামলার পর পিরোজপুরের বিশেষ জজ আদালত এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
