গ্রীষ্মকালীন প্রায় চার মাস ওয়াসার পানির উৎস লবণাক্ততা দেখা দেয়। এতে ওয়াসার পানির উৎপাদন কমে গিয়ে নগরীতে পানির সংকট দেখা দেয়। ফলে এ সময় নগরীতে লবণাক্ততামুক্ত পানি সরবরাহের জন্য ওয়াসা কর্তৃপক্ষ নতুন একটি পানি শোধনাগার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পে কর্ণফুলী নদীর উজানে বোয়ালখালী ভাণ্ডালজুরি থেকে পানি সংগ্রহ করে পরিশোধন করা হবে। দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের সক্ষমতার প্রকল্প নির্মাণ করা হবে।
ওয়াসার মদুনাঘাট ও মোহরা পানি শোধনাগারের জন্য হালদা নদী থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়। এই দুটি প্রকল্পের দৈনিক শোধন ক্ষমতা ১৮ কোটি লিটার। কিন্তু গত কয়েক বছর যাবত গ্রীষ্ম মৌসুমে দুই থেকে চার মাস হালদা নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যায়। এ সময় হালদা থেকে পানি সংগ্রহ করা যায় না। ফলে পানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় নগরীতে চরম পানির সংকট দেখা দেয়। সরবরাহ করা পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা থাকায় মানুষ এসব পানি পান করতে পারে না। কর্মকর্তারা জানান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হালদায় গ্রীষ্ম মৌসুমে লবণাক্ততা বেড়ে যায়। তখন ওয়াসা কর্তৃপক্ষের করণীয় থাকে না। চলতি বছরে লবণাক্ততার পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।
ওয়াসা পানিতে লবণাক্ততার বিষয়টি এবার ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। ওয়াসার প্রতি নগরবাসীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফলে ওয়াসা বিকল্প উৎস খুঁজতে থাকে। ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, মোহরায় পানি শোধনাগার প্রকল্পের পাশে দ্বিতীয় আরেকটি শোধনাগার নির্মাণের মতো খালি জায়গা রয়েছে। এখানে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার ধারণক্ষমতার একটি পানি শোধনাগার নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নগরীতে নিরবচ্ছিন্ন লবণাক্তমুক্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে। পরে এখানে বিরাজমান দৈনিক ৯ কোটি লিটার সক্ষমতার পানি শোধনাগার ও মদুনাঘাট আধুনিকায়নের মধ্যে সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
ওয়াসার শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, গ্রীষ্ম মৌসুমে কাপ্তাই লেকে পানি কমে যাওয়ায় হালদায় অনেক গভীরে সাগরের লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ছে। লেক থেকে পানি নিয়ে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাঁচটি ইউনিট চালানো হচ্ছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় লেকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় লেকের পানি হালদায় আসছে না। এমতাবস্থায় ওয়াসা কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ে দুটি প্রস্তাব দিয়েছে। একটি হচ্ছে কাপ্তাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সারা বছর সব ইউনিট চালু না করে দুটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু রাখা। এতে লেকের পানি কম খরচ হলে হালদায় উজান থেকে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে। সাগরের লবণাক্ত পানি ঢুকতে পারবে না। দ্বিতীয় হচ্ছে কর্ণফুলীর উজানে ভাণ্ডালজুরি এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করে মোহরায় নতুন একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করা। কারণ, ভাণ্ডালজুরি এলাকায় সাগরের লবণাক্ত পানি পৌঁছে না। মোহরা প্রকল্প স্থান থেকে ভাণ্ডালজুরির দূরত্ব কম। সড়কের পাশ দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভাণ্ডালজুরি থেকে পানি আনতে গেলেও খরচ অনেক বেশি হবে। তাই কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সংগ্রহ করলে খরচ কম হবে।
জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, ‘কাপ্তাই লেকের পানি নিয়ে সমস্যা ও সমাধান এবং বিকল্প উৎস নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এতে ভাণ্ডালজুরি থেকে পানি সংগ্রহ করে মোহরায় পানি শোধনাগার নির্মাণের পক্ষে সম্মতি পাওয়া গেছে। প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে আমি জাইকা, বিশ্ব ব্যাংক ও কোরিয়ান সংস্থার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা প্রকল্পে অর্থায়নে আশ্বাস দিয়েছে। এখন প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে পাঠানো হবে।’
