উত্তপ্ত সূর্যের আলোয় সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হাওরের ডোবা, খাল-বিল ও নদী এখন পানিশূন্য। ৩-৪ দিন যাবৎ বৃষ্টি হলেও হাওরে যে ঢুকবে এমন পরিস্থিতি এখনও হয়নি। তবে উজানে অতিবৃষ্টির কারণে আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকে নদ-নদীতে কিছুটা পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, নদীর পানি হাওরে ঢুকে তাহলে মাছের বংশবিস্তার ও হাওরের জীববৈচিত্র্যে ফিরে পাবে প্রাণ।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার উপজেলায় ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টা উজানে ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারি বর্ষণের কারণে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে পানি বৃদ্ধির ধারণা করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক তরুন কান্তি দাশ বলেন, ৩-৪ দিন যাবৎ বর্ষণের ফলে নদীতে পানি বেড়েছে। তবে ওয়াটার ট্যাংক হিসেবে যেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলোতে হালকা পানি প্রবেশ করছে কিন্তু বড় বড় হাওরে এখনো পানি প্রবেশ করে নি। অন্যান্য বছর হাওর এ সময় পানিতে থৈ থৈ করত। কিন্তু এবার নামমাত্র বৃষ্টি হওয়ায় হাওর ও নদী পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মাছের ডিম ছাড়ার দুই মাস চলে গেলেও পানি না আসায় মাছের উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
অপু নামে এক মাঝি বলেন, এক মাস আগেই নৌকার মেরামতের কাজ শেষ করেছি। তবে পানি না আসায় কোনো কাজে লাগছে না। অন্যবছর এদিনে অনেক টাকা আয় হলেও এবার তা হচ্ছে না।
কৃষক রমেন্দ্র দাশ বলেন, ‘গতবার এমন দিনে বন্যায় ভাসাইয়া নিছিল। আর এবার এখনো পানির কোনো খবর নাই। পানির লাগি (জন্য) আওরে (হাওর) মাছ পাওয়া যায় না। পানি না থাকলে মাছই কেমনে আইব (আসবে)।
মাছ ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন দাস বলেন, হাওরে পানি না থাকায় দেশীয় মাছের অভাব দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হলেও হাওরে আসার মতো পানি হয়নি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ শামসুদ্দোহা বলেন, বর্ষার শুরুতে আষাঢ়ের প্রথম দিকেই ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উজানেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে আমাদের সীমান্তবর্তী নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়ছে। এই পানি সীমান্ত এলাকার হাওরগুলোর ফসল রক্ষা বাঁধের ক্লোজার দিয়ে হাওরে প্রবেশ করছে।
