পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, একটা প্রমাণ দেখান যেখানে কুশাসন করেছি। যদি কোনো কুশাসন করে থাকি, তাহলে আদালতে যান, জনগণের কাছে যান। শুধু সমালোচনা করে দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে হবে না। সরকারকে অনির্বাচিত বলা হলে এম এ মান্নান এর প্রতিবাদ করে বলেন, ডাকুন তো কালকে হরতাল। দেখি ১০০ জন লোক নামাতে পারেন কিনা। আপনারা বলে বেড়াচ্ছেন, দেশে সুশাসন নেই। আমরা কোথায় কুশাসন করেছি, তার প্রমাণ দেন। জনগণের আদালতে যান, আইনের আশ্রয় নেন। খেলাধুলা করতে চাইলে গ্যালারিতে নয় মাঠে নামুন।
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সংলাপে অর্থ পাচার, সুশাসন এবং রিজার্ভ সংকট নিয়ে কড়া সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংলাপের আয়োজন করে সিপিডি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সংলাপে আরো বক্তব্য দেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম, ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, শ্রমিক নেত্রী তাসলিমা আখতার, ঢাকা চেম্বার সভাপতি ব্যারিস্টার সামীর সাত্তারসহ অনেকে। সংলাপের সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
আলোচনায় অংশ নিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারকে অনির্বাচিত উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত ৩০ বছরে সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল, তা নষ্ট হয়ে গেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দেওয়ার কারণে টাকা পাচার হচ্ছে। এটি বন্ধ না করে সরকার পাচারকারীদের বরং প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে। রিজার্ভ থেকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলে (ইডিএফ) যে অর্থ দেওয়া হয়েছে তার অধিকাংশ পাচার হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না হওয়ায় এসব নিয়ে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা থাকছে না। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি চলছে ১ শতাংশ মানুষকে সুবিধা দিতে। যেসব স্বার্থগোষ্ঠী বর্তমান সরকারকে বিভিন্নভাবে ক্ষমতায় রাখতে সহযোগিতা করছে, সরকার তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিতে নানা নীতি ও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কত কয়েক বছরে এত পরিমাণ অর্থ লুট হয়েছে ও পাচার হয়েছে। কিন্তু কয়জন লোক শাস্তি পেয়েছে। দেশে আইনের শাসন থাকলে নির্বাচনসহ সবকিছু ঠিকভাবে চলত। সিস্টেম লসের নামে চুরি হচ্ছে। সরকার যে ভর্তুকি দিচ্ছে সেটি তো জনগণ পাচ্ছে না, ঐ চুরির ঘাটতি মেটাতেই যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যপূরণ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। দেশের আর্থিক খাতে আস্থার সংকট রয়েছে। এটি ব্যাংকিং এবং শেয়ার বাজার উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে। সরকারে অভ্যন্তরীণ ঋণ গত ৫০ বছরের যেভাবে বাড়েনি, গত এক বছরে তার চেয়ে বেশি বেড়েছে। আগামী অর্থবছরে টাকা ছাপিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের ঋণ জোগান দেওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু সেটি ঠিক হবে না। তবে রিজার্ভ সংকট কাটাতে পাইপলাইনে জমে থাকা ঋণের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার খরচ বাড়ানো যেতে পারে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান সংকটময় সময়ে চ্যালেঞ্জগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করা না গেলে আগামীতে অর্থনীতিতে সমস্যার সৃষ্টি হবে। বাস্তবতা বিবেচনা করেই সবকিছু চিন্তা করা উচিত। বর্তমানে মূল্যস্ফীতির ব্যাপক চাপ রয়েছে। সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুতের অবস্থা খুবই খারাপ। ঢাকা শহরে কিছুটা অবস্থা ভালো হলেও গ্রামের অবস্থা খুবই খারাপ। বিদ্যুত্ ও জ্বালানিসংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাজেটে এ সমস্যা সমাধানে খুব বেশি জোর দেওয়া হয়নি। বড় বাজেট দিয়ে বেপরোয়া কর আরোপ করা হচ্ছে। এতে সরকার খুশি হলেও আমরা আতঙ্কিত।
