অবশেষে নিউইয়র্কে সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক ও সামাজিক সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইন্ক দুই ভাগ হলো। সংগঠনের তহবিল থেকে নিজ নামে ‘জালালাবাদ ভবন’ কেনা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামকে চূড়ান্ত অব্যাহতির এক সপ্তাহ পরই পাল্টা সাধারণ সভায় বহিস্কার করা হলো সভাপতি বদরুল খান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিমকে।
সভায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ঘোষণা করা হয়েছে সহ-সভাপতি শাহীন কামালীকে। এর ফলে কার্যত পাল্টাপাল্টি নেতৃত্ব তৈরি হলো প্রবাসে ৩৮ বছর ধরে ঐক্য ধরে রাখা বৃহত্তর সিলেটবাসীর এই সংগঠনটি।
স্থানীয় সময় রোববার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে বিশেষ সাধারণ সভা ডাকেন এর আগে ১১ জুন রোববার একই স্থানে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম। দুটি সাধারণ সভায়ই প্রায় সমানসংখ্যক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের সহ-সভাপতি (সুনামগঞ্জ) শাহীন কামালী সভাপতিত্ব করেন। মইনুল ইসলাম সভায় সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করেন। এরপর অগঠনতান্ত্রিকভাবে সাধারণ সভা আহ্বানসহ সুনির্দিষ্ট কয়েকটি অভিযোগে সভাপতি বদরুল খান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (সহ-সম্পাদক) রোকন হাকিমকে বাহিস্কার করা হয়। উপস্থিত সদস্যরা দাঁড়িয়ে এই প্রস্তাবে সমর্থন জানান।
এর আগে ১১ জুন রোববার একই স্থানে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বদরুল খান। সংগঠনের তহবিলে নিজ নামে ‘জালালাবাদ ভবন’ কেনার অভিযোগে ওই সাধারণ সভায় মইনুল ইসলামকে চূড়ান্ত অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এর আগে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্কট নিরসনে ট্রাস্টি বোর্ড ও কয়েকজন সিনিয়র সদস্য সবরকম চেষ্টা চালালেও কোনো ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেননি। তবে দুটি বহিস্কারাদেশই কার্যকর হবে ২৫ জুন থেকে। সাধারণ সদস্যরা আশাবাদী, এই সময়ের মধ্যে আবারো আলোচনার উদ্যোগে নিলে সঙ্কটের সমাধান হতে পারে। অর্থাৎ ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে প্রবাসের সবচেয়ে বড় এই সংগঠনটি।
