রাজধানীতে পথচারীদের যাতায়াতের সুবিধা এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বেশ কিছু নতুন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যমান ফুটওভার ব্রিজগুলো উন্নয়নের কাজও হাতে নেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। সে অনুযায়ী গত বছরের জানুয়ারি থেকে এসব কাজ করার জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত হলেও কাজের কাজ হয়নি। বেশ কিছু জায়গায় কাজও শুরু করা যায়নি। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে।
জানা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি, এপ্রিল ও নভেম্বর মাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ইমপ্রুভমেন্ট অফ ইনফাস্ট্রাকচার অ্যান্ড রোড সেফটি প্রকল্পের আওতায় উত্তরা, মিরপুর, মহাখালি, কারওয়ান বাজার ইত্যাদি স্থানসমূহের বিভিন্ন পয়েন্টে ৩৫টি নতুন ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ ও ৪২টি ফুট ওভার ব্রিজ উন্নয়ন কাজের জন্য বিভিন্ন অযোগ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়। যদিও ডিপিপি ও সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ করার কোনো সুযোগ ছিল না।
অথচ অজ্ঞাত কারণে তাদেরকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্যাদেশ প্রদানের ১২ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ে কাজগুলো সম্পন্ন হওয়া নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যেসব ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে তাদের কারোরই টেন্ডার ডকুমেন্টে উল্লেখিত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের আবশ্যকীয় প্রয়োজনীয় পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।
সিটি করপোরেশনের শর্তানুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাজ করতে হলে, ঠিকাদারের নুন্যতম পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে ন্যূনতম একটি নতুন ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অর্থাৎ বিগত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা না থাকলে ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ কাজের জন্য ঠিকাদার অযোগ্য বিবেচিত হবেন। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ এবং টেন্ডার ডকুমেন্টেও এই নির্দেশনা রয়েছে। প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ এর ৬৪ ধারায় সতর্ক করা হয়েছে এই আইনের অধীন পণ্য বা সেবা কর্ম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক এই বিধান লঙ্ঘন করা হলে বা লঙ্ঘন করার চেষ্টা করা হলে তা পেশাগত অসদাচরণ এবং অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এসব নতুন ফুট ওভার ব্রিজ সময়মত নির্মাণ না হওয়ার পথচারীদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত এসব ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন করে পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করা হোক।
এ বিষয়ে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। কোথাও কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ী ব্যাক্তির বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনদুর্ভোগ লাঘবে উত্তর সিটি কারো সঙ্গে আপোষ করবে না।
