একেবারে দুয়ারে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সেরার লড়াই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ (সাফ)। আগামীকাল বুধবার (২১ জুন) মাঠে গড়াবে সাফের ১৪তম আসর। বাংলাদেশ ফুটবল দল এখন আয়োজক শহর বেঙ্গালুরুতে। ইতোমধ্যেই চার দেশ সেখানে হাজির হয়ে গেছে। ভারত ছাড়াও রয়েছে লেবানন, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ। এরই মধ্যে অন্য দেশেরও পৌঁছে যাবার কথা।
সময় যত ঘনিয়ে আসছে টেনশন বাড়ছে ফুটবলারদের। বিশেষ করে বাংলাদেশ ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা সাফ নিয়ে টেনশনে রয়েছেন। দেশের মানুষ তাকিয়ে এই মঞ্চে। গত দুই দিন বেঙ্গালুরুতে অনুশীলন করেছে ফুটবলাররা। এই দুই দিনে জাতীয় দলের স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা তার মাঠ এবং মাঠের বাইরে বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন। নোটবুকে ছক আঁকছেন আর মাঠে নেমে সেটা সাজিয়ে বাস্তবায়ন করার কৌশল দেখাচ্ছেন জামাল ভুঁইয়া, সোহেল রানা, বিশ্বনাথ, জনি, আলমগীর মোল্লা, তপু বর্মণ, রহমত মিয়া, তারিক কাজীদের।
হাতে সময় কম। এবার কঠিন সাফ। এবারই প্রথম সাফে বাংলাদেশ বাইরের কোনো দলের বিপক্ষে লড়াই করবে। আগামী ২২ জুন বাংলাদেশ প্রথম মাচ খেলবে লেবাননের বিপক্ষে। এই একটা ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনা ছড়াচ্ছে।
কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা লেবাননের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘লেবানন শক্ত প্রতিপক্ষ হলেও আমার দলের খেলোয়াড়দের উপর আস্থা আছে। খেলাটা সহজ হবে না সেটা আমরা বুঝি। আমাদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে হবে।’
বাংলাদেশে বেঙ্গালুরুতে পৌঁছানোর আগে দুটি ম্যাচ খেলে এসেছে। কম্বোডিয়ার টিফফি আর্মি দলের বিপক্ষে জয় পেয়েছে। আর মূল জাতীয় দল, কম্বোডিয়ার বিপক্ষেও জয় পেয়েছে। এই দুটি জয় বাংলার ফুটবলারদের প্রেরণা দিচ্ছে। দুই ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি। এটা একটা ভালো দিক মনে করছেন গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। বললেন, ‘আমরা কোনো গোল হজম করিনি। এখানে একটা কথা বলা দরকার, গোলকিপার এবং রক্ষণভাগে যারা খেলবেন তারা নিজেদের অবস্থানকে আরো বেশি শক্ত করবেন। কোনো ফাঁক গলে যেন বল বেরিয়ে যেতে না পারে। লেবাননের বিপক্ষে আমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে ’
জিকোর কথা হচ্ছে গোলকিপার এবং রক্ষণভাগ এই দুটি জায়গার ফুটবলাররা যেন সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। বুঝতে হবে এটা লেবানন। মাঠে নামলে সব প্রতিপক্ষ শক্তিশালী। জিকো বলেন, ‘আমরা দুই ম্যাচে গোল হজম করিনি। এটা শক্তি হিসাবে কাজে লাগাতে হবে।’
ভারতের ভুবনেশ্বরে অনুষ্ঠিত হিরো ইন্টারকন্টিনেন্টাল ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারত ২-০ গোলে লেবাননকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই দুই দল এই টুর্নামেন্টের প্রথম মুখোমুখিতে গোল শূন্য ড্র করেছিল। আর পরশু রাতে ফাইনালে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরল। সাফের আগে দুই দেশের প্রস্তুতিটা দারুণ হয়েছে।
জিকো মনে করছেন লেবানন চার ম্যাচ খেলে ক্লান্ত থাকবে। এই সুযোগটা নিতে চান তিনি। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের রানিং খুব ভালো ছিল। লেবাননের বিপক্ষে আরো বেশি রানিং করতে হবে। সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। ওদেরকে সুযোগ দেওয়া যাবে না। তাহলে পয়েন্ট আসতে পারে। জিকো বললেন, ‘আমি গোল খাইনি। এবার সাফে গোল না খাওয়াটাই আমার ব্যক্তিগত টার্গেট।’
