বর্ষার শুরুতে কুড়িগ্রামের ধরলা নদীতে তীব্র ভাঙন

আপডেট : ২০ জুন ২০২৩, ১৫:৪০

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে ধরলাসহ বিভিন্ন নদ ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। ফলে ধরলাসহ বিবিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে এলাকাবাসী কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

উপজেলার চর-গোরকমন্ডল এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙনে একমাত্র সড়কটি নদী গর্ভে বিলীনের পথে। সড়কটি যে কোনো সময় বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। ফলে হুমকির মুখে ওই এলাকার শতশত ফসলি জমিসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার। ইতোমধ্যেই চর ও গোরকমন্ডল এলাকার ভাঙনের শিকার কয়েকটি পরিবার অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভাঙন ঠেকাতে না পারলে শতশত পরিবার ক্ষতির মুখে পড়বে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী জানান, চর-গোরকমন্ডল এলাকার নদী তীব্র ভাঙন বড়ই উদ্বেগজনক। ভাঙন ঠেকাতে গত বছর ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে আবেদনটি সংসদ সদস্য, সুপারিশসহ কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডে দেওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড দুই হাজার ৩০০ জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানো যায়নি।

তাই ধরলার তীব্র ভাঙন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

ছবি: ইত্তেফাক

চর গোরকমন্ডল এলাকার কামাল হোসেন জানান, ধরলার তীব্র ভাঙনে কয়েকটি বাড়ী-ঘরসহ একমাত্র সড়কটির বড় একটি অংশ নদীতে চলে গেছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে শতশত পরিবার ও ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তাই তিনি দ্রুত ভাঙন রোধ করতে কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। 

তিনি জানান, এ বছর বর্ষার শুরুতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করতে না পারলে একমাত্র সড়কটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। সড়কটি কোন ক্রমেই রক্ষা করতে না পারলে চর ও গোরকমন্ডল গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার ভাঙনের শিকার হবে। তাই ধরলার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ইসমত ত্বোহা বলেন, চর ও গোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা ভাঙনের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। সেখানে ৭০০ মিটার ভাঙন রোধে কাজ করতে হবে। আসলে বড় প্রকল্প ছাড়া সেখানে তীব্র ভাঙন ঠেকানো সম্ভব না। তারপরেও আপাতত চার হাজার জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করা হবে।

ইত্তেফাক/আরএজে