চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় তিন সন্তানের জননীকে হত্যাকারী ঘাতক স্বামী হত্যার কথা স্বীকার করেছেন পুলিশের কাছে। চট্টগ্রাম থেকে লাশ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় নিয়ে দাফনের ৯ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ। লাশটি তাড়াহুড়ো করে দাফন করেছিলেন স্বামী। ঘাতক স্বামী গ্রেফতার হয়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার পশ্চিম খাদিরখিল এলাকায় আসমা আক্তারের (২৭) লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। তার স্বামীর নাম কাজী শাহেদুজ্জামান রিমন (৪২)। তার বাড়ি রামগঞ্জের পশ্চিম খাদিরখিল এলাকায়। এই দম্পতি চট্টগ্রামের পতেঙ্গার খেজুরতলা এলাকায় বসবাস করছিলেন।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাব হোসাইন জানান, মৃত আসমা আক্তার (২৭) তার স্বামী কাজী সাহেদুজ্জামান রিমনের (৩৫) সঙ্গে নগরীর পতেঙ্গা থানার খেজুরতলা এলাকার বাসায় থাকতেন। তাদের ৯ বছর বয়সি এক ছেলে এবং তিন বছর ও ১০ মাস বয়সি দুইটি কন্যাসন্তান আছে। আসমার বাবার বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায়। গত ১২ জুন মৃত আসমার বাবা আলম পতেঙ্গা থানায় গিয়ে তার মেয়েকে খুন করে জামাতা লাশ গুম করেছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি পুলিশকে জানান, ১০ বছর আগে রিমনের সঙ্গে আসমার বিয়ে হয়। গত ১০ জুন বিকালে রিমন তাকে ফোন করে আসমা ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানায়। রিমনের অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তিনি টেকনাফ থেকে পতেঙ্গার বাসায় আসেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এমনকি রিমনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরো জানান, গত ১৪ জুন শাহেদুজ্জামান রিমনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী আসমাকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেন। লক্ষ্মীপুরের নিজ এলাকায় আসমাকে দাফন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
