বেঙ্গালুরুকে বলা হয় ইলেকট্রনিক সিটি। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে আইটি নিয়ে লেখাপড়া করতে আসেন শিক্ষার্থীরা। বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দর দেখার মতো। নান্দনিক সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়েছে। ক্যাম্পেগৌড়া বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে এলে বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠীর নাম সবার মুখে মুখে। বিমানবন্দরের সামনে ট্যাক্সি, বাসস্ট্যান্ডে গেলে ওখানকার চালকরা বুঝে নেয় দেবী শেঠীর হাসপাতালে যাবে। ব্যবস্থা রয়েছে। বাস সরাসরি হাসপাতালের গেটে নামিয়ে দেয়। শহরের বাইরে হাসপাতাল। বিমানবন্দরের বাইরে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। কারো কাছে মনে হতে পারে ইউরোপের ছবি চোখের সামনে। গাছ-গাছালি, ফুল-বাগান, পাখির সমারোহ মন ভরিয়ে দেয়। চোখ জুড়িয়ে যায়।
এই শহরেই দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল যুদ্ধের ময়দান প্রস্তুত। আজ শুরু হবে। শেষ হবে ৪ জুলাই, ফাইনাল দিয়ে। ফুটবলের মঞ্চ প্রন্তুত। উপমহাদেশের ফুটবল শক্তির সব উৎস নিয়ে আজ থেকে ভারতের ইলেকট্রনিক সিটি বেঙ্গালুরুতে লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ছাড়া বাদবাকি সব দেশ। স্বাগতিক ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান এবং পশ্চিম এশিয়ার দেশ লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত। বলা হচ্ছে উপমহাদেশের ফুটবল লড়াই। কিন্তু দেশের নামের দিকে তাকালে ফুটবল লড়াই হবে উপমহাদেশ এবং পশ্চিম এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিপক্ষে। দুই প্রান্তের লড়াই। এই সাফ উপমহাদেশের লড়াই বলা যাবে না।
সাফ ছিল এই অঞ্চলের ফুটবল শক্তি-সম্পর্ক পাকাপোক্ত করা। পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধন আরো সুদৃঢ় করা। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশের ফুটবল সম্পর্কটার উৎকর্ষতা সাধনের জন্যই উপমহাদেশের ফুটবল দেশগুলোকে নিয়ে এই পথচলা শুরু হয়। শুরুটা হয়েছিল সাফ গোল্ডকাপ হিসেবে। পরবর্তী সময়ে সেটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নামে প্রতিষ্ঠা পায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সাফ অঞ্চলের ফুটবল দর্শকের কাছে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে। সাধারণের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। নেপাল, ভুটান, ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ-সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ যেখানেই হোক, সেখানেই ফুটবল দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। সাফের খেলা মানেই যেন ফুটবল বিনোদনে অবগাহন।
এর আগে আফগানিস্তান খেলেছে সাফে ২০০৩ সালে, ঢাকায়। ওটাই আফগানদের প্রথম সাফ এবং সাফের বাইরের কোনো দলের অংশগ্রহণ। ২০১৩ সালে নেপালে সাফে চ্যাম্পিয়ন হয় আফগানিস্তান। তারপরই সাফ থেকে বেরিয়ে গিয়ে আফগানিস্তান এখন সেন্ট্রাল এশিয়ার ফুটবলে খেলছে। যে কারণে এই আফগানিস্তান সাফে নেই। আমন্ত্রণ পেলে খেলতে পারত।
এবার সাফের ১৪তম আসর। এই আসরে সবচেয়ে বাড়তি আকর্ষণ হচ্ছে সাফের আমন্ত্রণে খেলতে আসা শক্তিশালী দল কুয়েত এবং লেবানন। সাফ অঞ্চলের বাইরের দুই দল আসায় বাড়তি আকর্ষণ ছড়িয়েছে। আলো ছড়িয়েছে। তবে বাইরের দলগুলোকে নেওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে সাফের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের অনুরোধ। তারা আগামীতে এশিয়ান কাপে খেলবে। সেখানে কঠিন লড়াই করার আগে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে সাফের আট বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। এরই মধ্যে ভারত নিজেদের মাটিতে চার জাতি টুর্নামেন্ট খেলে ফাইনালে লেবাননকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। লেবানান খেলেছে সাফের প্রস্তুতি হিসাবে। আর ভারত সাফ খেলে থাইল্যান্ডে আরেকটি টুর্নামেন্টে খেলতে যাবে। সেটিও এশিয়ান কাপ ফুটবলের প্রস্তুতির জন্য।
সাফে ভারত ফেবারিট। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য খেলবে। তবে খুব সহজেই ট্রফি ঘরে তুলবে সে কথা এবার তুড়ি মেরে বলা যাবে না। লেবানন কিংবা কুয়েত তারাও কম না। ফিফার র্যাংকিংয়ে আট দেশের মধ্যে লেবাবন (৯৯) এবং কুয়েত (১৪৩) সবার উপরে রয়েছে।
শ্রীলঙ্কা এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু ২১ জানুয়ারি ২০২৩ ফিফা হতে নিষিদ্ধ হয় শ্রীলঙ্কা। সেটা এখনো তোলা হয়নি। সহজকথায়, ফিফার নিষেধাজ্ঞা হতে মুক্ত হতে না পারায় শ্রীলঙ্কা এবার সাফে খেলত পারছে না। শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনও করতে পারবে না। শ্রীলঙ্কার ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ থাকায় ফিফা নিষিদ্ধ করে। তাতে সাফের আকর্ষণ একফোটাও কমেনি।
নেপাল, পাকিস্তান এবং ভুটান এখনো সাফে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। নেপাল ২০২১ সালে ফাইনাল খেলে রানার্সআপ হয়, ভুটান ২০০৯ সালে সেমিফাইনাল পর্যন্ত ওঠে। ১৯৯৭ সালে তৃতীয় হয় পাকিস্তান। ২০০৮ এবং ২০১৮ সালে দুই বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মালদ্বীপ। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয় ২০০৩ সালে ঢাকায়। ভারত আট বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
