চমেক হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস বন্ধ হচ্ছে

স্যান্ডর কর্তৃপক্ষের আয়কর না দেওয়ায় অডিট আপত্তি

আপডেট : ২২ জুন ২০২৩, ০৫:০০

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারিভাবে স্যান্ডর পরিচালিত কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রোগীদের বিকল্প ব্যবস্থায় কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য স্যান্ডর কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এতে কিডনি রোগীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্যান্ডর কর্তৃপক্ষ ডায়ালাইসিস সেবার বিপরীতে সরকারের পরিশোধিত অর্থের আয়কর পরিশোধ করেনি। একটি মাত্র বিলের বিপরীতে আয়কর না দেওয়ায় সরকারের প্রায় ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বকেয়া টাকার কথা বলে স্যান্ডর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ করে দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্যান্ডর মেডিকেইডস প্রাইভেট লিমিটেড পিপিপি প্রকল্পের আওতায় ভারতীয় স্যান্ডর মেডিকেইডস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেজ অ্যান্ড ইউরোলজি কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা প্রদানের জন্য ২০১৫ সালের ২৭ জুন চুক্তি সম্পাদন করে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বিল, ভাউচার, বাজেট বরাদ্দ ও ব্যয় নথি যাচাইকালে পরিলক্ষিত হয় ডায়ালাইসিস সেবা প্রদান বাবদ স্যান্ডর কর্তৃপক্ষকে একটি বিলের মাধ্যমে ৫ কোটি ১০ লাখ ১২ হাজার ৬৯৪ টাকা পরিশোধ করা হয়। পরিশোধিত বিলের ওপর ১২ শতাংশ হারে আয়কর কর্তন করা হয়নি। আয়কর না দেওয়ায় সরকার  ৬১ লাখ ২০ হাজার ৩২৩ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

জানা যায় সম্প্রতি স্যান্ডর কর্তৃপক্ষের ২ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য একটি চেক তৈরি করা হয়েছে। তা থেকে আয়কর বাবদ ৬১ লাখ ২০ হাজার ৩২৩ টাকা কর্তন করায় তারা অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

সেন্টারের দরজায় টাঙানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে আজ ২২ জুন থেকে স্যান্ডর পরিচালিত ডায়ালাইসিস সার্ভিস সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালক (অর্থ) কর্তৃক সার্ভিস পেমেন্ট  পরিশোধে বারবার অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব ও অসযোগিতার কারণে হঠাৎ করে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।

স্যান্ডর দুই ধরনের মূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা দিয়ে থাকে। প্রতি মাসে একজন রোগীকে আট বার ডায়ালাইসিস করতে হয়। এর মধ্যে দুই বার ২ হাজার ৭৮৫ টাকা পরিশোধ করলে বাকি ছয় বার ৫১০ টাকা করে ফি পরিশোধ করেন রোগীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার ডায়ালাইসিস সেন্টারে সেবা বন্ধের নোটিশ দেখে কিডনি রোগীরা হতাশ হয়ে পড়েন। গত জানুয়ারি মাসেও ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ রাখা হলে রোগীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সড়ক অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়। এখন সাড়ে চার মাস পর আবার স্যান্ডর এর সেবা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে স্যান্ডর কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তা কথা বলছেন না। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান বলেন, স্যান্ডর কর্তৃপক্ষ আমাকে এবং মন্ত্রণালয়কে কোনো কিছু না জানিয়ে সেবা বন্ধের নোটিশ দিয়েছে। এটা অমানবিক সিদ্ধান্ত। কিডনি রোগীদের জীবর মরণ সমস্যা। আয়কর পরিশোধ না করা নিয়ে স্যান্ডরের বিরুদ্ধে অডিট আপত্তি রয়েছে। তারা প্রচুর টাকা আয় করলেও সরকারকে ভ্যাট, আয়কর দিচ্ছে না।’

ইত্তেফাক/এমএএম