বাম চোখে ছানি অপারেশন করতে গিয়ে ডাক্তার অপারেশন করেছেন ডান চোখ। নিজের ভুল ঢাকতে ডাক্তার রোগীর বাম চোখেও অপারেশন করেন। ডাক্তারের এমন ভুল চিকিৎসায় রোগী এখন প্রায় অন্ধ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চোখ ভালো হতে নাও হতে পারে। দেশীয় চক্ষু বিশেষজ্ঞগণ ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে গিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে বলেছেন। এমনই অভিযোগ ময়মনসিংহের ধোপাখোলা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ডাক্তার শাহরিয়ার রাজন রাজুর বিরুদ্ধে।
জানা যায়, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ার পুটিজানা ইউনিয়নের বেড়ীবাড়ী গ্রামের দরিদ্র চা বিক্রেতা উৎসব চন্দ্র পালের স্ত্রী শিখা রানী পালের (৩০) বাম চোখের ছানি অপারেশনের জন্য নাজমুল নামের একজন ডা. জামান আই কেয়ার এন্ড ফ্যাকো সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে চোখের ছানি অপারেশনের জন্য ১৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। ১৭ মে হাসপাতালে ভর্তি হন বাম চোখের ছানি অপারেশনের জন্য।
বাম চোখে ছানি অপারেশন করার কথা থাকলেও হাসপাতালের ডাক্তার শাহরিয়ার রাজন রাজু ডান চোখে অপারেশন করেন। নিজের ভুল বুঝতে পেরে তখনই আবার বাম চোখ অপারেশন করেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শিখা রানীকে ৯ দিন হাসপাতালে আটকে রাখেন বলে রোগীর পরিবার অভিযোগ করেছেন। পরে ৭ দিনের ওষুধ দিয়ে ভুল অপারেশনের শিকার শিখা রানীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসাপত্র ছাড়া সকল কাগজপত্রও রেখে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে চোখে আলো না আসায় ২৭ মে ময়মনসিংহের চক্ষু ডাক্তার হরি শংকর দাসের কাছে নিয়ে গেলে শিখা রানীকে ঢাকার ইস্পাহানী আই কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চলছে শিখা রানীর চিকিৎসা। এর মধ্যে বাম চোখ ছোট হয়ে গেছে। চিকিৎসক এ চোখের আশা ছেড়ে দিতে বলেছেন। ডান চোখের চিকিৎসা চললেও এখনো আলো আসেনি। চোখ ভালো হবে কি না তার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন না ডাক্তার।
ভুক্তভোগীর স্বামী উৎসব চন্দ্র পাল বলেন, চা বিক্রি করে আমার সংসার চলে। আমার এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে সংসারে। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এক কাঠা জমি আছে তা বিক্রি করার জন্য ঘুরছি। ডাক্তাররা বলেছেন ভারতের চেন্নাই নিয়ে চিকিৎসা করাতে। এ বিষয়ে বিচারের আশায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কোনো প্রতিকার পাইনি। থানার ওসি আদালতের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিখা রানীর অভিযোগ, ডাক্তার তার ভালো চোখ অপারেশন করে চোখের মনি অন্যত্র মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। ভুল অপারেশনের প্রতিবাদ করলে জোরপূর্বক অজ্ঞান করে বাম চোখ অপারেশন করে ডাক্তার। একই সময়ে দুচোখ অপারেশন করায় চোখের আলো হারিয়েছি। আমি এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডাক্তার শাহরিয়ার রাজন রাজু কথা বলতে রাজি হননি।
ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি শাহীনুজ্জামান জানান, আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে।
ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
