দেশের ফুটবল দর্শক সাফের খেলা দেখেছেন টিভির পর্দায়। লেবাননের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আশা জাগিয়েছিল। যারা মাঠে খেলে ছিল তারাও একটা সময় জয়ের আশায় লড়াই করেছিলেন। ম্যাচটা যখন ৮০ মিনিট গোলহীন কেটে গেছে তখন নাকি ফুটবলারদের মধ্যে জয়ের তাড়না জেগে ছিল। ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে এমনটাই জানিয়েছেন দলের ম্যানেজার আমের খান। লেবাননের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। সাফের প্রথম ম্যাচটা ছিল ফাইনালের মতোই। বাংলাদেশের চেয়ে লেবানান অনেক বেশি এগিয়ে। সেই দলটার বিপক্ষে বাংলাদেশ পেরে উঠবে না সেটাই সবার জানা।
কিন্তু বাংলাদেশ নেমে ছিল ফাইনাল ম্যাচ মনে করে। এক পয়েন্ট পেলে অনেক বড় প্রাপ্তি হবে সেটাই মাথায় ছিল। কিন্তু পুরো ম্যাচটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্স সম্মান জানানোর মতোই। লেবাননের কয়েকটি চেষ্টা দারুণভাবে রুখে দিয়েছিলেন গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। অথচ বাংলাদেশ সুযোগ পেয়েছেন খেলার সবচেয়ে সহজতম সুযোগ। ফয়সাল হোসেন ফাহিম বল পায়ে লেবাননের গোলকিপার আলী সাবেহকে একা পেয়েছেন। সেই গোলটা করতে পারেননি ফাহিম।
আবাহনীর এই ফুটবলার এমন পজিশন থেকে বল পেয়ে গোল করেছিলেন মোহামেডানের জালে। সেই ম্যাচ আর এই ম্যাচ পার্থক্য। ফাহিম শারীরিক গড়নে পিছিয়ে। বল নিয়ে যখন ফাহিম ঢুকতে গেলেন, তখন গোলকিপার এগিয়ে এলো। আর পেছনে থেকে দৌড়ে কাভার করে ফেলেন লেবাননের দীর্ঘদেহী ফুটবলার আলী ধাইহিনি। তার লম্বা স্টেপ এগিয়ে দিয়েছে। লম্বা লম্বা পা ফেলে ফাহিমকে ধরে ফেলতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি। ফাহিম বুঝতে দেরি করেছেন, আগেই শট নিতে পারতেন। খেলা শেষ রাতে হোটেলে ফিরে খেলোয়াড় কোচ কর্মকর্তারা কথা বলেছেন। গতকাল দুপুরেও কথা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক মিটিং হয়েছে দলের মধ্যে। ফাহিম আফসোস করছেন। এমন সুযোগ পেয়েও যিনি কাজে লাগাতে পারেননি। সেটা এখন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন ফাহিম। আমের খান বুঝিয়েছেন তাকে মেসি মারাদোনাও মিস করে। কিন্তু ফাহিম যে সুযোগ পেয়েছেন সেটি কাজে লাগাতে পারলে দেশের ফুটবলে হিরো বনে যেতে পারতেন।
খেলার দ্বিতীয়ার্ধে এক সঙ্গে তিনটা চেঞ্জ করেছিলেন কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা। সেই পরিবর্তনগুলো দলের জন্য ভালো হয়েছিল। খেলার মোড় ঘুরে গিয়েছিল। কিন্তু পরের দুইটা পরিবর্তন খেলাটাকে পিছিয়ে দিয়েছে। এমনটাই মনে করা হচ্ছে। আমের খান বললেন, ‘এটা কোচের সিদ্ধান্ত। কেন উনি চেঞ্জ করেছেন। সেটা আমি বলতে পারব না।’
জাতীয় দলের নতুন ফুটবল ঈসা ফয়সাল। দ্বিতীয় গোল হজমের জন্য দায়ী। বদলি খেলতে নামা আবেদিন ফাররান বল নিয়ে ঢুকছেন। আর ঈসা ফয়সাল এমনভাবে পা বাড়ালে যেন জীবনে প্রথম ফুটবল খেলতে নামলেন। ফাররান সহজেই বল উপহার পেয়ে গোলের পথ তৈরি করে দিয়েছেন। এসব ভুল নিয়ে গতকাল দলের মধ্যে কথা হয়েছে। এসব ভুলে গিয়ে নতুন পথে যেতে চায় কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা। তার চোখে খেলোয়াড়রা ভুল করলেও পারফরম্যান্স নিয়ে অখুশি না কোচ।
গতকাল বিশ্রামের দিন হলেও বাংলাদেশ দল অনুশীলন করেছে। সেখানে অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া কথা বলেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। জামাল তার স্ট্রাইকারদের দোষ দিতে রাজি না। জামাল বলেন, ‘যে কেউ গোল করবে। এখানে ভুল হলে সবার ভালো হলেও সবার। কাউকে দোষ দিতে চাই না। লেবাননের ম্যাচে যেসব ভুল হয়েছে আমরা ভুলে যেতে চাই। মালদ্বীপকে মোকাবিলা করতে চাই।’ এই ম্যাচ সাফে বাঁচা-মরার লড়াই।
