দখলদারদের দাপটে ফেরত গেল ইছামতি খননের ৭ কোটি টাকা 

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৩, ১৮:২৪

বন্ধ হয়ে গেছে পাবনা শহরে প্রবাহিত ইছামতি নদীর দখলদার উচ্ছেদ ও খননের কাজ। নদীর দুই পাড়ের দখলদার উচ্ছেদ ও খননের জন্য বরাদ্দকৃত ৭ কোটি টাকার বেশি ফেরত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নদীর কিছু এলাকা নামমাত্র খনন করা হলেও আবারও পলি জমে ও ময়লা- আবর্জনা পড়ে আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। দখলদারদের মামলা জটিলতার কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে নদীর দখলদার উচ্ছেদ ও খননের জন্য একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৯ সালে নদীর দুই পাড়ের ৫ দশমিক ৬৭ কিলোমিটারে দখলদার উচ্ছেদের জন্য ২ কোটি ৭৯ লাখ ও ২ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার নদী খননের জন্য ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় এক বছর। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পাউবো ১ হাজার ৫৩ টি অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরি করে। এরপর ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসন ও পাউবো যৌথভাবে শহরের লাইব্রেরি বাজার ব্রিজ এলাকা থেকে উৎসমুখের দিকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। উচ্ছেদ করা হয় ৬১০টি অবৈধ স্থাপনা।

ছবি: ইত্তেফাক

উচ্ছেদ এলাকায় নদী খননের কাজ শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় বন্ধ হয়ে যায় উচ্ছেদ অভিযান। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান  মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ শেষ না হতেই প্রকল্প এলাকা ছেড়ে চলে যায় । কিন্তু পাউবো আর উচ্ছেদ ও খননকাজ শুরু করতে পারেনি ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীতে পানি নেই। পুরো নদী যেন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়ে আছে। খনন করা এলাকায় পলি জমে ও ময়লা-আবর্জনায় আবার ভরাট হয়ে গেছে। কিছু দখলদার আবার নদীর জমি নিজের মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন। কেউবা আবার ঝুলিয়েছেন আইনি নিষেধাজ্ঞার নোটিশ। নদীপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, আর এ কারণেই প্রকল্পের টাকা ফেরত গেছে।

পাউবো কর্তৃপক্ষের দাবি, মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই তারা উচ্ছেদ ও খননকাজ করতে পারেনি। যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, তাতে বরাদ্দের ৯৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ আর বৃদ্ধি না হওয়ায় বাকি টাকা চলতি জুন মাসে ফেরত চলে গেছে।

ছবি: ইত্তেফাক

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রুহুল আমিন বলেন, পাউবো সঠিকভাবে খনন এলাকা বুঝিয়ে দিতে না পারায় তারা খননকাজ করতে পারেননি। আর যখন প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখন খরচ কম ছিল। বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আর কাজ করা সম্ভব হয়নি।
 
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম বলেন, ইছামতি নদী খনন জেলাবাসীর প্রাণের দাবি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণেই নদী খনন বন্ধ হয়ে গেছে। এটা জেলাবাসী কিছুতেই মেনে নেবে না। সেনাবাহিনী নিয়োগ করে হলেও নদীটির দখলদার উচ্ছেদ ও খনন করা হবে বলে প্রত্যাশা করি।

পাউবোর পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দিন বলেন, তিনি নতুন আসায় প্রকল্পটির বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই। তবে তিনি বিষয়টি দেখবেন। 

জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন বলেন,  টাকা ফেরত গেলেও নদী খননের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এবি/পিও