‘আন্তনগরের ড্যানি’

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৩, ১৫:৫৮

তরুণ অভিনেতা নাফিজ আহমেদ।এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি নাটক,সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি।নিজের অভিনয়ের মধ্যদিয়ে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন চলচ্চিত্র জগতের এই নবাগত অভিনেতা। মহানগরের টিটু চৌধুরী,যা দর্শক মনে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। এবার পালা আন্তঃনগরের। চলুন এই অভিনেতার কাছেই শুনে নেয়া যাক তার জীবন ও সিনেমার গল্প।সাক্ষাতকার নিয়েছেন তামান্না তাবাসসুম ত্রেয়া।

প্রশ্নঃ কেমন আছেন আপনি?

নাফিজ আহমেদঃ জি, এই মুহুরতে বেশ ভালো আছি।

প্রশ্নঃ মহানগরের টিটু চৌধুরী কে তো আমরা সবাই চিনি। আমি এবার নাফিস আহম্মেদ সম্পর্কে জানতে চাই? নাফিস আহম্মেদ কে? তার শিক্ষাজীবন, বেড়ে উঠা?

নাফিজ আহমেদঃ আমার জন্ম পুরান ঢাকার  গেণ্ডারিয়াতে। সেখাই আমার বেড়ে উঠা, শিক্ষাজীবনও পুরান ঢাকাতেই,স্কুল কলেজ সব কিছু ওখানেই। 

প্রশ্নঃ চলচিত্র জগতে আপানার পদার্পণ কখন ও কিভাবে?

নাফিজ আহমেদঃ ২০১৩ সালে, একটি থিয়েটার গ্রুপে জয়েন করি এবং কাজ করা শুরু করি। এবং সেই মঞ্চে আমার নাটক গুলো হয়। ২০১৬ সালে শামীম আক্তার পরিচালিত  রিনা ব্রাউন দিয়ে আমার প্রথম বড় পর্দা বা চলচ্চিত্র  জগতে যাত্রা শুরু হয়। 

প্রশ্নঃ নাফিস আহম্মেদ কি সিঙ্গেল, মিঙ্গেল অর ম্যারিড?

নাফিজ আহমেদঃ ম্যারিড তো অবশ্যই না তবে সিঙ্গেলও না। আছি একটা জায়গায়।

প্রশ্নঃ আপনি তো বেশ কিছু চরিত্রে অভিনয় করেছেন।সব গুলোর মাঝে নিজেকে কোন চরিত্রে দেখতে বেশি ভাল লাগে?

নাফিজ আহমেদঃ আসলে আমরা যারা অভিনয় করি, যখন কোন কাজ করা শুর করি বা চরিত্রে অভিনয় করি তখন কিন্তু আমরা সেই চরিত্রে ডুবে যাই এবং চেষ্টা করি সেই চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলতে আর তখন কিন্তু সেই চরিত্রটাই ভাল লাগে। আবার যখন নতুন কোন চরিত্র আসে তখন সেইটাকে ফুটিয়ে তুলার চেষ্টা থাকে। তাই সব চরিত্রই ভাল লাগে একেক রকম ভাবে। তবে এটা বলতে পারি যে, আমার রিসেন্ট একটি ছবি বের হয়েছে ‘ওরা সাত জন’ সেই অরা সাত জন এর ‘ সুমিত’ চরিত্র টি আমার খুব পছন্দের একটি চরিত্র। এই চরিত্রে অভিনয় করে আমার বেশ ভাল লেগেছে।

প্রশ্নঃ নিজেকে ব্যক্তি মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি ভাল লাগে নাকি মানুষ যখন আপনকে টিটু চৌধুরী হিসেবে চিনে তখন বেশি ভাল লাগে?

নাফিজ আহমেদঃ ব্যক্তি আমি কিন্তু একদমি আলাদা,আর টিটু চৌধুরী সেটা চরিত্রের প্রইয়োজনে আমাকে টিটু চৌধুরী হতে হয়েছে, বা টিটু চৌধুরী কেমন ওটা ফুটিয়ে তোলার জন্য আমাকে এই জায়গাটা করে নিতে হয়েছে। টিটু চৌধুরী কে যখন মানুষ পছন্দ করে বা ভালবাসে তখন অবশ্যই ভাল লাগে যে একটা চরিত্র কে আমি হয়ত ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে সেদিক থেকে অবশ্যই ভাল লাগে।

প্রশ্নঃ আমরা দেখি যে সেলিব্রিটিদের রিউমার কিন্তু এখন বেশ ছড়ায়।আপনি সেই জিনসটা কতটা ফেস করছেন?

নাফিজ আহমেদঃ একদমি নেই। আমি খুবি সাধারন মানুষ আমার ক্ষেত্রে আসলে এই ধরনের কোন রিউমার নাই।

প্রশ্নঃ নিজের জীবনে চলার ক্ষেত্রে সুন্দর বা মজার কোন স্মৃতি যদি শেয়ার করতেন।

নাফিজ আহমেদঃ মজার স্মৃতি বলতে, আমার খুব আগে থেকেই অভিনয়ের প্রতি একটা ঝোঁক ছিল। তোহ যখন আমি প্রথম ছবিতে কাজ করি বা ছবির অফার পাই এতা বেশ আনন্দের একটা মুহূর্ত ছিল।এবং এখনও যখন আমি ছবিতে প্রতিটা চরিত্র পাই কাজ করার জন্য এটা কিন্তু অন্য রকম একটা আনন্দের মাত্রা যোগ হয়। এটা আমার স্বপ্ন ছিল আমি অভিনয় করতে চাইতাম। অনেক ধরনের ক্যারেক্টার করতে চাইতাম আমি, তোহ এখন যখন আমি এই ধরনের কাজ গুলো করতে পারছি  তখন এটাই তো অনেক বেশি আনন্দের, যে আমার কাজের মধ্য দিয়ে দর্শক আনন্দ পাচ্ছে, দর্শক আমাকে চিনছে, চাচ্ছে, এটাই কি অনেক বেশি আনন্দের না! এটা আসলে আমরা খ্যেয়াল করি না, এতো বড় একটা  জিনিস আমি পেয়ে গেলাম দর্শক দের কাছ থেকে এই ভালবাসা তা পেলাম এটাই অনেক বেশি আনন্দের।

প্রশ্নঃ কোন ক্যারেক্টারে অভিনয় করার পর দর্শক দের কাছ থেকে বেশি সাড়া পেয়েছেন?

নাফিজ আহমেদঃ আমার দুটো কাজ দর্শক দের কাছ থেকে বেশি সাড়া পেয়েছে, একটা হচ্ছে ওরা সাতজনের সুমিত চরিত্র আর মহানগরের টিটু চৌধুরী।

প্রশ্নঃ পরবর্তীতে আমরা নাফিস আহম্মেদ কে নতুন কোন চরিত্রে দেখতে চলেছি?

নাফিজ আহমেদঃ আন্তঃনগর একটি ফিল্ম যেটি খুব তাড়াতাড়ি চর্কিতে আসছে। 'আন্তঃনগর'-এর গৌতম কৈরী পরিচালিত প্রথম সিনেমা। সেখানে এবার আমি আসছি ড্যানি নামে ভিন্ন একটি চরিত্র নিয়ে।

প্রশ্নঃ আন্তঃনগর ও ড্যানি চরিত্র নিয়ে কি আমরা কোন পূর্ব ধারণা পেতে পারি?

নাফিজ আহমেদঃ আন্তঃনগর আসলে আমাদের আন্তঃনগর এর অলিগলির ভালবাসার গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে। এই ছবিটিতে আসলে দারুণ সব শিল্পীরা কাজ করছেন। শ্যামল মাওলা, রুনা খান, আমি, সোহেল মণ্ডল, শবনম ফারিয়া, আশীষ খন্দকার, প্রান্তর দস্তিদার, নিদ্রা নেহা। আর আমার চরিত্রটি হল আন্তঃনগর এর  একজন উল্টাপাল্টা মানুষ,পাও্যারফুল একজন মানুষ,পুরান ঢাকার অলিগলির একজন মানুষ। আর বাকিটা সামনে তো দর্শক দেখবেই।

প্রশ্নঃ অনেক ধন্যবাদ এতক্ষণ আমাদের সাথে যুক্ত থাকার জন্য গল্প করার জন্য এবং আন্তঃনগর এর জন্য অনেক বেশি শুভেচ্ছা রইল। 

নাফিজ আহমেদঃ আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি আয়োজনে আমাকে রাখার জন্য।

ইত্তেফাক/এএইচপি