আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঘরে ফেরা মানুষের সড়কপথে বিড়ম্বনার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, সারা দেশে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার সড়ক ভাঙাচোরা। এ কারণে সড়কপথে তীব্র যানজট সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে নৌপথে যাত্রীদের ঈদযাত্রা হচ্ছে নির্বিঘ্ন। অন্যদিকে ট্রেনযাত্রা এখন স্বস্তির। এবারের ঈদযাত্রায় রাজধানী থেকে সড়কপথে ঘরে ফেরা মানুষের অন্তত ২৬টি স্পটে ভোগান্তির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভুগতে হতে পারে উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের। ময়মনসিংহ অঞ্চলের যাত্রীদেরও ভোগাবে গাজীপুরের কিছু অংশ। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের জন্যও রয়েছে দুর্ভোগের আভাস। সে হিসাবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটের পথে।
এদিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটে যাওয়ার পথে মদনপুর, শিমরাইল বাসস্ট্যান্ড, কাঁচপুর সেতু ও মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় যানজট সৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা থেকে ৩০০ ফুট এলাকা হয়ে নরসিংদী যেতে কাঞ্চন সেতু ও ভুলতা গাউছিয়া মোড়ে যাত্রীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণের পথে বড় যানজট হতে পারে পদ্মা সেতুর দুই পাড়ে। ঢাকা থেকে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশ অংশে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতুসংলগ্ন মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর ও ভাঙ্গা অংশে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সড়কের কিছু জায়গায় সমস্যা আছে ঠিকই, কিন্তু আমাদেরও শৃঙ্খলার অনেক অভাব। ঈদের সময় আমাদের অনেক ভিআইপি রাস্তার রংসাইডে চলাচল করেন। একটু জটলা দেখলেই তারা রংসাইডে চলে যান। এখন অসাধারণ মানুষ যদি আইন না মানেন, সাধারণ মানুষের দোষ কী? প্রথমে অসাধারণদের আইন মানতে হবে। যানজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা এই কষ্টটা দূর করতে পারছি না। এই কষ্ট আমারও আছে।
জানতে চাইলে সড়ক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামছুল হক বলেন, সব গাড়ির চাপ সড়কে একসঙ্গে হলে ভোগান্তি কমানো যাবে না। অতীতেও এর বেশির ভাগ জায়গায় ভয়াবহ যানজটের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সড়কে ভোগান্তি কমাতে সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
এদিকে যানজটের কারণে সময়মতো কোনো গাড়ি কাউন্টারে পৌঁছাতে পারছে না। গুলিস্তান থেকে সায়েদাবাদ, সায়েদাবাদ থেকে চিটাগাং রোড, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বের হতে তীব্র যানজট লক্ষ করা গেছে। সময়মতো কাউন্টারে গাড়ি না আসায় ঘরমুখী মানুষের ভিড় দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হচ্ছে। এদিকে প্রচণ্ড গরমে শত শত গাড়ি আটকে থাকায় চালক ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জানা গেছে, সায়েদাবাদ থেকে চিটাগাং রোড ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বের হতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগছে। কমলাপুর থেকে সায়েদাবাদে এসেছেন ফয়সাল নামে এক যাত্রী। তিনি জানান, কমলাপুর থেকে সায়েদাবাদে আসতে তার সময় লেগেছে এক ঘণ্টা। হেঁটে এলেও ২০ মিনিটে আসতে পারতেন বলে জানান তিনি।
একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করা বরিশালের মো. পলাশ মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া। এর জন্য একটি লঞ্চের সিংগেল কেবিনের টিকিট নিয়েছেন। কাউন্টারে কোনো ভিড় নেই। টিকিট পেতে কোনো ঝামেলা হয়নি। আগে দেড় হাজার টাকার নিচে ঈদের সময় সিংগেল কেবিন মিলত না। এবার ১ হাজার টাকায় কেবিন পেয়েছেন।
পালটেছে ভোগান্তির দিন, ট্রেনযাত্রা এখন স্বস্তির
বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান কমতে কমতে সর্বনিম্নে নেমেছিল কয়েক বছর আগে। এরপর একের পর এক নতুন ট্রেন চালু, পুরোনো রেকের বদলে নতুন রেক পুনঃস্থাপন, অনলাইনে টিকিট বিক্রি এবং টিকিট ছাড়া স্টেশনে প্রবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার পরই বদলে যেতে শুরু করেছে যাত্রীসেবার মান, বাড়ছে সুযোগ-সুবিধা।
কমলাপুর রেল স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেছেন, সব ট্রেনই যথাসময়ে যথানিয়মে চলাচল করছে। ট্রেনে এখন আর আগের দিন নেই। ট্রেনযাত্রা এখন আরো সহজ হয়েছে।
আগের ভোগান্তির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘শুধু রংপুর এক্সপ্রেস আসতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। আমরা আগে দেখেছি, সকালের ট্রেন রাতে গেছে। মানুষ টিকিট কাটতে ভোগান্তিতে পড়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। র্যাব, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছে। ট্রেনে এখন আগের দিনের সেই সময় নেই। সকালের ট্রেন রাতে যাওয়ার সুযোগ নেই?’
তিনি বলেন, ঈদে শতভাগ টিকিট অনলাইনে পাওয়ায় যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি নেই। কোনো বিষয় নিয়ে তাদের অভিযোগও নেই। বিনা টিকিটে কেউ ভ্রমণ করতে পারবেন না। ট্রেনের ছাদে যাতে কেউ ভ্রমণ করতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে।
