এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ। এডিস মশার কামড়ে ভাইরাস সংক্রমণের ৩ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ডেঙ্গুজ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। ২ থেকে ৭ দিনের মধ্যে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। তবে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। প্রতিরোধই একমাত্র উপায়।
উপসর্গ :জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও ব্যাক-বোন ফিভার অথবা ডেঙ্গুর আরেক নাম ‘হাড়ভাঙা জ্বর’—যা মাংশপেশি ও হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা থেকে এসেছে। মেরুদণ্ড ও কোমরে ব্যথা হওয়া এ রোগের বিশেষ লক্ষণ—সেরোটাইপ চারটি: ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪।
সব বয়সের শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাঁরা শারীরিক বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য ডেঙ্গু মারাত্মক হয়। তাই শরীরে জ্বর বা অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গুর বিশেষায়িত কোনো চিকিত্সাব্যবস্থা নেই। তবে চিকিত্সকের পরামর্শ মেনে চললে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাসায় কয়েকদিনেই সুস্থ হওয়া যায়।
প্রতিরোধ :মশার কামড় থেকে বেঁচে চলতে হবে, ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী এডিস মশাগুলো বাসাবাড়ি ও বাড়ির আশেপাশে বংশবিস্তার করে। দীর্ঘদিন কোনো জায়গায় পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা ডিম পাড়ে। তাই ডাবের খোল, টায়ার, ফুলের টবসহ পানি জমে থাকে এমন জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। ডেঙ্গু নির্মূল করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, সচেতন হতে হবে।
ডেঙ্গুর নির্ধারিত চিকিত্সা নেই। প্রকাশিত লক্ষণের সঙ্গে চিকিত্সা করতে হয় রোগীদের। সেজন্য কারো ডেঙ্গু হলে করণীয় হলো পূর্ণ বিশ্রাম। শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম গ্রহণ করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। শরবত, ফলের রস, ডাবের পানি, স্যালাইন পানি ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে।
ডেঙ্গু হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিত্সকের পরামর্শমতো চললে মৃত্যুঝুঁকি এড়ানো যায়। ঘরবাড়ি আশপাশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ঘুমানোর সময় মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। এবার ডেঙ্গুতে যারা মারা গিয়েছে তাদের বেশির ভাগ ছিল ডেঙ্গু শক সিনড্রোম এবং রোগীরা বেশি দেরি করে হাসপাতালে এলে পেশেন্টকে বাঁচানো মুশকিল হয়ে পড়ে। তাই জ্বর হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেই অনুযায়ী চলতে হবে।
