দুর্ভোগের অপর নাম হানিফ ফ্লাইওভার

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৩, ০২:১৮

মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে লাখ লাখ যাত্রীর। যানজট থেকে পথচারীদের ভোগান্তি কমাতে একের পর এক ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। কিছু ফ্লাইওভারে টোল না থাকলেও মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে যানবাহনকে টোল দিতে হয়। যাত্রীরাও যানজট এড়াতে অতিরিক্ত টাকা ভাড়ার সঙ্গে দিয়ে থাকেন। কিন্তু মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে যানজট নিত্যঘটনা হয়ে গেছে। প্রায় প্রতিদিনই সায়েদাবাদ থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় গণপরিবহন। ফলে যাত্রীরা যে উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত টাকা দিচ্ছেন, সে সুফল পাচ্ছেন না।

সরেজমিন দেখা যায়, গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে যানবাহন নামতে গেলেই যানজট। গুলিস্তান পয়েন্টে প্রতিদিন যানজট লাগছে। কখনো কখনো সে যানজট ফ্লাইওভারের পেছনে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ হয়। ভুক্তভোগীদের মতে, এ যেন ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ভোগান্তি কেনা।

সরেজমিনে ফ্লাইওভারের কুতুবখালী প্রান্তে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে যেসব লোকাল বাস আসছে, ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখে  সেগুলো যাত্রী ওঠানামা করানোর জন্য দাঁড়াচ্ছে। এতে করে ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। একই স্থানে আবার রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা থাকায় কিছুক্ষণ পর পর ফ্লাইওভারের কর্মীরা রাস্তা বন্ধ করে যাত্রী পারাপার করছে। তাতেও অনেক যানবাহন আটকা পড়ছে।

হানিফ ফ্লাইওভারের গোলাপবাগ দিয়ে কমলাপুর বা রামপুরাগামী গাড়িগুলো নামে। এদিক দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গাড়ি নামে। অথচ সন্ধ্যা হলেই গোলাপবাগে নামতে গিয়েও প্রতিদিন যানজটে আটকে থাকতে হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ফ্লাইওভার থেকে নামার আগেই বাসগুলো দাঁড় করিয়ে যাত্রী নামানো হয়। এতে করে পেছনের দিকে যানবাহনের দীর্ঘ সারি থেকে যানজটের সৃষ্টি হয়। একই সময় ফ্লাইওভারের মুখেই নিচের রাস্তার গাড়িগুলো ঘুরানো হয়। দুটো মিলে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়।

গুলিস্তানের যানজট আরো ভয়াবহ। গুলিস্তানে যানবাহন নামতে গেলে যানজটে পড়তে হবে—এটা যেন নির্ধারিত বিষয়। এখানেও ফ্লাইওভার অতিক্রম করার আগেই গাড়িগুলো ডান দিকে মোড় নেওয়ার নামে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। পেছনের গাড়িগুলো আর সামনে এগুতে পারে না। এভাবে ফ্লাইওভারের ওপরে কয়েক কিলোমিটার যানজট হয় হরদম।

ইত্তেফাক/ইআ