চামড়া খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণ রয়েছে ১৩ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৫ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। এ খাতের মোট ঋণের যা প্রায় ৩৯ শতাংশ। পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার যেখানে ৯ শতাংশ। চামড়া খাতে খেলাপি ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখনো শিথিল শর্তে নতুন ঋণের ব্যবস্থা করেছে। কখনো পুরোনো ঋণ নবায়নের সুযোগ দিয়েছে। এতসব সুযোগের পরও বড় অঙ্কের ঋণ এখন খেলাপি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, অনেক আগে থেকে চামড়া খাত সমস্যায় রয়েছে। এ খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশসম্মত সনদ নেই। ফলে অনেক ব্র্যান্ড এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কিনতে চায় না। আবার বেশ আগে বিশ্ববাজারে চামড়া রপ্তানিতে ধস নেমেছিল। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান সময়মতো ব্যাংকের টাকা ফেরত দিতে পারেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত চামড়া খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণস্থিতি রয়েছে ১৩ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। মূলত নব্বইয়ের দশকে বিতরণ করা চামড়ার ঋণের বেশির ভাগই ফেরত আসেনি। যে কারণে ব্যাংকগুলো এ খাতে আগ্রহ হারিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চামড়া খাতের ঋণ নিয়মিত করতে বারবার সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যথাসময়ে ঋণ ফেরত দিতে না পারা প্রতিষ্ঠানও যেন চামড়া কেনার ঋণ নিতে পারে, সে জন্য গত বছর কোরবানির ঈদের আগে বিশেষ সুবিধায় ঋণ নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়। এর আগে ২০২০ সালেও চামড়া খাতের ঋণে বিশেষ বিবেচনায় সুদ মওকুফ, মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনর্গঠন এবং পুনঃতপশিল বা এক্সিট সুবিধা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির পশুর চামড়া কেনার ঋণ এবারও কমিয়েছে ব্যাংকগুলো। রাষ্ট্রীয় মালিকানার চারটি ব্যাংক এবার ২৩৫ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। গত বছর ছিল ২৪৫ কোটি টাকা। আর করোনার আগের বছর ২০১৯ সালে চামড়া কেনায় ৫৫৫ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছিল এসব ব্যাংক। এবার জনতা ব্যাংক ১০০ কোটি, অগ্রণী ৮০ কোটি, রূপালী ব্যাংক ৩০ কোটি ও সোনালী ব্যাংক ২৫ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। যদিও এ পরিমাণ ঋণ দিতে পারবে কিনা, তা নিয়ে ব্যাংকগুলো সংশয়ে রয়েছে। এর বাইরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, সিটি, বেসিক, বাংলাদেশ কমার্স, এনসিসি, আল-আরাফাহ্ ব্যাংক নির্দিষ্ট কয়েক জন গ্রাহককে চামড়া কিনতে ২৪ কোটি টাকার ঋণ দেবে।
ব্যাংকাররা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে কেবল নিয়মিত থাকা ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনার ঋণ পেয়ে থাকেন। অবশ্য কেউ শেষ সময়ে এসে নবায়ন করলে তাকে ঋণ দেওয়া হয়। তবে অনেকে এখনো নবায়নের জন্য আসেননি। ফলে বরাদ্দ রাখা পুরো টাকা ঋণ দেওয়া যাবে বলে মনে হয় না। তারা জানান, চামড়া কেনার ঋণ দেওয়া হয় ৯ মাসের জন্য। তবে আশানুরূপ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকগুলো আগের মতো ঋণ দিতে আগ্রহ দেখায় না। এর মধ্যে চামড়ার দর অনেক কমে যাওয়ায় আগের মতো ঋণের প্রয়োজনও হয় না। এছাড়া চামড়া কেনার ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে অনেকে খেলাপি হওয়ায় ব্যাংকগুলো অনেক সতর্ক। এসব কারণে প্রতি বছর দেশে পশু কোরবানির সংখ্যা বাড়লেও ঋণের পরিমাণ কমছে।
