জামালের চোখেমুখে একটা ভালো লাগার ছাপ স্পষ্ট। শুধু জামাল ভুঁইয়াই নয়। দলের অন্যসব ফুটবলারের চেহারাগুলো একই বার্তা দেয়। অনেক দিন পর কিছু একটা হতে যাচ্ছে, এমন বার্তা দেশের ফুটবলারদের চাঙ্গা রাখছে। তবে আজ ভুটানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে অতি আত্মবিশ্বাসী হতে বারণ করেছেন অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া।
ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ জিতে সমীকরণ মিলিয়ে সেমিফাইনালের সেতু পার হয়ে যাবে বাংলাদেশ। খুব দূরে নয়, সেতু পার হতে এক ম্যাচ হাতে। তবে এটাকে সহজ মনে করতে রাজি না বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। তার কথা হচ্ছে কোনো কিছুই সহজ হয় না। সহজ করে নিতে হয়। প্রতিপক্ষকে সহজ বলার কোনো কারণ নেই। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বিপজ্জনক। জামালের কথা হচ্ছে লেবানানের বিপক্ষে আমরা ভালোই খেলেছিলাম। কিন্তু ওদেরকে ক্লান্ত মনে করাটাই আমাদের ঠিক হয়নি। লেবানন ক্লান্ত ছিল। ঐ সময় আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলাম। যে কারণে আমাদের দুটি ভুল হয়েছিল। সেখান থেকে গোল হজম করেছিলাম। আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো। প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা থাকাও ভালো।’
মাঠের অনুশীলনে গিয়ে শুধুই খেলা নিয়ে নয়, কোরবানি নিয়েও কথা বললেন জামাল ভুঁইয়া। নিজে গরু কেনেন। এবার খেলা থাকায় সেটা করতে পারেননি। তবে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে জামাল জানিয়ে দিলেন গরু কেনা হয়ে গেছে। প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে আবার ভুটান প্রসঙ্গ। এই ম্যাচটা নিয়ে জামাল বললেন, ‘এটা একটা গ্রেট সুযোগ। সবাই উজ্জীবিত। আমরা মনে করছি এখন সবকিছু আমাদের হাতে আছে। এটা দলের জন্য, বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য ভালো হবে। আমরা তিন পয়েন্ট নিতে পারলে দেশ খুশি হবে। সবাইকে খেলা দেখতে অনুরোধ করছি।’
ডিফেন্ডার তারিক কাজীর বাম পায়ে চোট রয়েছে। সে গতকালই অনুশীলন করেনি। বিশ্রামে রয়েছে। ভুটানের বিপক্ষে আজ মাঠে নামতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত না। না নামার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে কোচ নাকি তারিকের বিকল্প ভেবে রেখেছেন। কারণ সেমিফাইনালে উঠতে তারিক কাজীকে দরকার হবে। যদি এমন হয় তারিক কাজী না খেলতে পারেন তার জায়গায় অন্য কাউকে দিয়ে কাজ চালানো হবে। তারপরও তারিক কাজীকে পুরো বিশ্রাম দিয়ে সেমিফাইনালের জন্য প্রস্তুত করতে চান কোচ। তবে এটাও ঠিক তারিক কাজীকে আজকের ম্যাচে স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে।
তারিক কাজী প্রসঙ্গে কোচ বলেন, ‘আমরা তারিক কাজীকে মিস করব। কারণ সে রক ফুটবলার। সলিড ডিফেন্ডার। এটাও ঠিক যে তারিকের বদলে যাকে নামানো হবে সেও দায়িত্ব নিয়েই খেলবে।’

