দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ ময়দান

বৃষ্টি উপেক্ষা করে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহে ২ লক্ষাধিক মুসল্লির জামাত আদায়

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৩, ১৩:২৬

দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও বৃহৎ এই ঈদগাহে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটেছে। আয়োজকরা দাবী করেছেন, ২ লক্ষাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছে এই জামাতে।
 
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ঈদগাহ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দান। ২২ একর আয়তনের এই ঈদগাহে ১৯৪৭ সাল থেকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলেও আধুনিক নির্মাণশৈলীতে এই ঈদগাহে বৃহৎ পরিসরে ঈদের জামাত শুরু হয় ২০১৭ সাল থেকে।

দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ার মধ্যেও এই ঈদগাহে আজ খুব সকাল থেকেই সমবেত হতে শুরু করেন মুসল্লিরা। সকাল সাড়ে ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও ঠিক ৮টা ৩৫ মিনিটে শুরু হয় নামাজ। এখানে ইমামতি করেন মাওলানা শামসুল আলম কাশেমী। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে করা হয় মোনাজাত।

বৃহৎ এই জামাতের প্রধান উদ্যোক্তা জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম (এমপি) জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য এবার কাঙ্খিত মুসল্লির সমাগম না ঘটলেও ২ লক্ষাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন। শেষ পর্যন্ত সফলভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হওয়ায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি। এই জামাতে নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে মুসল্লিদের জন্য দুটি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এখানে নামাজ আদায় করেন, বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ, পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহম্মেদ, দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমসহ রাজনীতিবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষ। 

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ বলেন, ‘কয়েকদিন বিরূপ আবহাওয়ার পরও এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই ঈদগাহে সুষ্ঠুভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে।’ এ জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
 
পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহম্মেদ বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে এই ঈদের জামাত সম্পন্ন করার জন্য সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’ শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ঠ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
 
বৃহৎ এই জামাতে অংশ নেওয়ার সুবিধার্থে এবারই প্রথম বাংলাদেশ রেলওয়ে ব্যবস্থা করে দুটি স্পেশাল ট্রেনের। ঈদগাহে মুসল্লিদের জন্য স্থাপন করা হয় শৌচারগার, ওজুর ব্যবস্থা। বসানো হয় মেডিকেল টিম। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নেওয়া হয় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ইত্তেফাক/এসজেড