বিদায়ি অর্থবছরের মতো সদ্য শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরও শুরু হলো কৃচ্ছ্রসাধন নীতির মাধ্যমে। গতকাল ২ জুলাই রবিবার নতুন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম কার্যদিবসে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের কতিপয় ব্যয় স্থগিত এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় হ্রাস করে পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সব ধরনের গাড়ি, বিমান ও জাহাজ কেনাকাটায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত প্রকল্পের অর্থ ছাড় পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। সব ধরনের আবাসিক, অনাবাসিক, অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা খাতে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া অর্থ ব্যয়ও বন্ধ থাকবে। বৈদেশিক ভ্রমণ, কর্মশালা, সেমিনারে অংশগ্রহণ এবং ভূমি খাতের অধিগ্রহণ বাবদ বরাদ্দ সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা পরিপত্র সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে কতিপয় খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সরকার এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সাশ্রয় করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ খাতের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ এবং জ্বালানি খাতে বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ খরচ করা যাবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়।
অর্থ বিভাগের উপসচিব আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে বলা হয়, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং আওতাধীন অধিদপ্তর/পরিদপ্তর/দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত/আধাস্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে কতিপয় খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সরকার কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ, পেট্রোল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট এবং গ্যাস ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যবহার করা যাবে। সব আবাসিক ভবন, অনাবাসিক ভবন এবং অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। তবে ১০ বছরের অধিক পুরোনো মোটরযান প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদনক্রমে ব্যয় নির্বাহ করা যাবে এবং ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভূমি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা যাবে। এক্ষেত্রে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এক খাতের বরাদ্দকৃত অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা যাবে না।
যেসব শর্তে বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে :নতুন নির্দেশনায় সব ধরনের বিদেশভ্রমণ, কর্মশালা, সেমিনার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কোনো বিদেশভ্রমণ কর্তৃপক্ষের অত্যাবশ্যকীয় বিবেচিত হলে সীমিত আকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে করা যাবে। এছাড়া পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সরকারি অর্থায়নে এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা/বিশ্ববিদ্যালয়/দেশ কর্তৃক প্রদত্ত স্কলারশিপ/ফেলোশিপের আওতায় বৈদেশিক অর্থায়নে মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়ন করা যাবে।
