সাফে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের ফুটবলারদের মনটা ভেঙে গেছে। এবার এত ভালো খেলেও ফাইনালে উঠতে না পারা ফুটবলারদের মন ভালো নেই। টানা পাঁচ সাফের সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। নানা কটু কথায় কান পচে যাচ্ছিল। এবারও দর্শকের প্রত্যাশা ছিল না। কিন্তু খেলোয়াড়দের অসাধারণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকের চোখ টিভির পর্দায় বন্দী করেছিল। সেমিফাইনালে কুয়েতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দারুণ ফুটবল খেলেও ১১৭ মিনিটে গোল হজম করে বিদায় নিতে হয়েছে।
৮২ বিশ্বকাপে খেলা কুয়েত। তাদের ফুটবল ভান্ডার ফেলে দেওয়ার মতো না। সালাহউদ্দিন, এনায়েত, সান্টু, জাকারিয়া পিন্টু, নওশের, প্রতাপ শংকর, আসলাম, মোনেম মুন্না,ওয়াসিম, এমিলি, আশিষ ভদ্র, জনি, মানিক, কায়সার হামিদরাও তাদের স্বর্ণালি ফুটবল সময়ে কুয়েতকে হারাতে পারেননি। এই সময়ের রকিব, তপু, তারিক কাজী, জামাল ভূঁইয়ারা জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন, কুয়েতকে হারিয়ে ফাইনালে যেতে পারলেন না। কুয়েত লড়াই করে বুঝে গেছে বাংলাদেশ চোখে চোখ রেখে খেলেছে। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে লেবাননের বিপক্ষে একটা সামান্য ভুলে গোল হজম করে ২-০ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মালদ্বীপের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৩-১ গোলে। শেষ ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে, ড্র করলেই সেমিফাইনাল। ১-০তে পিছিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৩-১ গোলে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফুটবল দল কুয়েতের বিপক্ষেও ভালো খেলেছে। দর্শক খুশি। দেশের ফুটবল দর্শক বলেছে এই হার অনেক বেশি সম্মানের।
সাফের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া বাংলাদেশের ফুটবলাররা রাতে ঘুমাতে পারেননি বলে বেঙ্গালুরু হতে জানিয়েছেন দলের ফুটবল ম্যানেজার আমের খান। তিনি গতকাল সকালে ফুটবলারদের মুখ দেখেছেন। ভালো লাগেনি। সবার মন খারাপ। আমের বললেন,‘সবার চেহারা দেখেই বুঝা গেছে রাতে ঘুম হয়নি। কেউ রুম থেকে বের হয়নি। দুপুরে কোথায় ঘুরে আসার কথা বললেও ওরা যেতে রাজি হয়নি। আমরা শুধু বলেছিলাম তোমরা নিজেরা গেলে যাও। দুপুরে ফিরে আসো, এক সঙ্গে খাবো।’
কুয়েতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কী হয়েছিল জানতে চাইলে আমের বললেন, ‘কুয়েতের একজন ফুটবলার আমাদের তারিক কাজীর সঙ্গে বাজে ভাষায় খারাপ ব্যবহার করছিল। আমি থামাতে গিয়েছিলাম। তখন রেফারিকে বললাম আপনি আমাদের ফিজিওথেরাপিস্টকে লালকার্ড দিয়ে বের করে দিলেন। মাঠে খেলোয়াড় আহত হলে আমরা সেবা দিতে পারিনি। একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে লাল কার্ড দেখাল। রেফারির সঙ্গে ভারতীয় লোকজনও ছিলেন। তারাই বলছিলেন রেফারি এখনও খেলার মধ্যেই রয়েছে। কথা বললেই কার্ড।’
