যশোর ও খুলনার বাজারে ভারতের কাঁচা মরিচ, কমেছে দাম

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৩, ০৬:০২

যশোরসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার বাজারগুলোতে ভারতের কাঁচা মরিচ চলে আসায় কমে গেছে দাম। গতকাল যশোরে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায়। খুলনায় প্রতি কেজি মরিচের দাম ১৬০ টাকায় পর্যন্ত নেমে আসে।

যশোর অফিস জানায়, ভারতীয় কাঁচা মরিচ বাজারে আসায় যশোরে কমেছে কাঁচা মরিচের উত্তাপ। দুই দিন আগে ৬০০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচের দাম এখন ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় কাঁচা মরিচ বাজারে চলে আসায় এক দিনের ব্যবধানে দাম অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। দুই-এক দিনের মধ্যে দাম আরো কমে আসবে।

সোমবার শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৪০ টাকা থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, খরার কারণে গাছ থেকে মরিচের ফুল সব পড়ে যায়। উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদার তুলনায় বাজারে কাঁচা মরিচের জোগান ছিল কম। এ কারণে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এখন ভারতীয় কাঁচা মরিচ বাজারে চলে আসায় এক দিনের ব্যবধানে দাম অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। বড় বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী নিতাই গৌরি ভান্ডারের বাগান চন্দ্র সাহা বলেন, মরিচের দাম আরো কমে আসতে পারে। মরিচের আমদানি শুল্ক কমালে কম দামে বাজারে সরবরাহ করা যাবে। খুচরা বিক্রেতা আবদুল গফুর জানান, ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচা মরিচ বাজারে চলে এসেছে। প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ২৪০ টাকায়। বড় বাজারের ক্রেতা সালমা সুলতানা বলেন, দাম বেশি থাকায় দুই দিন আগে ৬০ টাকায় ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচ কিনেছিলেন, এখন ১০০ গ্রাম ৩০ টাকায় কিনেছেন।

প্রসঙ্গত, যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫৬ টাকা কেজি দরে ভারত থেকে ৪০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানি করা হয়েছে। রবিবার দুটি চালানের মাধ্যমে চারটি ট্রাকে করে এই কাঁচা মরিচ আমদানি হয়। শুল্কসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে যশোরসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করে এই মরিচ। আমদানি আরো বাড়তে পারে বলে স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। 

  • খুলনায় প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা

খুলনা অফিস জানায়, খুলনার বাজারে এসেছে আমদানি করা ভারতীয় কাঁচা মরিচ। ফলে এক দিনের ব্যবধানে দাম কমেছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। গত রবিবার কাঁচা মরিচের দাম ছিল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি। গতকাল সোমবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন বাজারে মানভেদে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দাম কম হওয়ায় মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

নগরীর খালিশপুর পৌর সুপারমার্কেটের ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, কাঁচা মরিচের মানভেদে দাম কমেছে। সোমবার সকালে খালিশপুর পৌর সুপারমার্কেটে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি করেছি।

নগরীর টুটপাড়া জোড়াকল বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, ‘বাজারে ভারতীয় কাঁচা মরিচ এসেছে। এর জন্য দাম কমেছে। সোমবার সকাল থেকে ২০০ টাকা কেজিতে মরিচ বিক্রি করছি। রবিবারও কাঁচা মরিচ ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি করেছিলাম।’

নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী কাজী সামসুদ্দীন বলেন, ‘ভারত থেকে আমদানি করায় বাজারে অনেক কাঁচা মরিচ এসেছে। আমি ১২০ টাকা কেজি দরে ১৫ কেজি মরিচ কিনেছিলাম। বিক্রি করছি ১৬০ টাকা কেজিতে। দাম কমায় ক্রেতাও বেড়েছে।’

নগরীর চিত্রালী বাজারে আসা পারভেজ আলম বলেন, সোমবার কাঁচা মরিচের দাম কমেছে। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকায়। তবে দাম আরো কমলে ভালো হয়।

ইত্তেফাক/ইআ