চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গাপুরের বাড়ির দাম ৩ বছরে প্রথমবারের মতো কমেছে। তবে শিথিল হচ্ছে এ খাতে আর্থিক লেনদেন। ব্যক্তিগত সম্পত্তির মূল্য আগের তিন মাসের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে, সে সময় মূল্য ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে এটি এ খাতে প্রথম পতন। এমনটাই দাবি করা হয়েছে দেশটির আরবান রিডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ইউআরএ) প্রকাশিত সমীক্ষায়। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
সিঙ্গাপুরের রেড-হট প্রপার্টি মার্কেট লন্ডন থেকে সাংহাই পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী চলা মন্দা অবস্থা সত্ত্বেও ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিল। সাম্প্রতিক দরপতনের ফলে দেশটির হাউজিং বাজার কিছুটা শিথিল হতে পারে। অ্যাপার্টমেন্টের দামের লাগাম টেনে ধরতে গত এপ্রিলে সরকার বিদেশী ক্রেতার জন্য স্ট্যাম্প শুল্ক দ্বিগুণ করে ৬০ শতাংশে উন্নীত করে, যা প্রধান হাউজিং বাজারগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। সরকার দ্বিতীয় বাড়ির ক্রেতাদের জন্য শুল্কও বাড়িয়েছে। মার্কিন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষক উইলসন এনজি ও ডেরেক চ্যাং সোমবার এক নোটে লিখেছেন, ‘এপ্রিলের সর্বশেষ স্থাবর সম্পত্তির বাজার শিথিল হওয়ায় দামের পরিবর্তন হয়েছে। বছরের শেষ দিকে আবারো দাম বাড়তে পারে।’
মরগান স্ট্যানলি পুরো বছরে ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। ইউআরএ অনুসারে, গত ত্রৈমাসিকে দাম কমে গেলেও লেনদেন আগের তিন মাসের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে। নতুনভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার পর সরবরাহের সংকট কমে যাওয়ায় মে মাসে বাড়ি বিক্রয়ের পরিমাণ এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। সিঙ্গাপুরের জাতীয় উন্নয়নমন্ত্রী ডেসমন্ড লি পরিসংখ্যান প্রকাশের পর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা স্থাবর সম্পত্তির বাজারে দাম কমার লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। চাহিদা পূরণে আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখা হয়েছে।’
সিঙ্গাপুরের সম্পত্তি বাজারের প্রভাব পড়েছে সরকারি বাড়ির বাজারেও। হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের পুনঃবিক্রয় মূল্যের একটি সূচক দ্বিতীয় প্রান্তিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা আগের তিন মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এ নিয়ে টানা ১৩ প্রান্তিক ধরে খাতটিতে লাভবান হয়েছে বিক্রেতারা। গত জুনে একটি পাবলিক হাউজিং ইউনিট রেকর্ড ১৫ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলারে আবার বিক্রি হয়েছে।

